Wednesday , April 24 2024

সুরা আত-তাগাবুন

আত-তাগাবুন

শ্রেণীঃ মাদানী সূরা
নামের অর্থঃ মোহ অপসারণ

সূরার ক্রমঃ ৬৪
আয়াতের সংখ্যাঃ ১৮
পারার ক্রমঃ ২৮
রুকুর সংখ্যাঃ ২
সিজদাহ্‌র সংখ্যাঃ নেই
শব্দের সংখ্যাঃ ২৪২
অক্ষরের সংখ্যাঃ ১০৬৬

← পূর্ববর্তী সূরা সূরা আল-মুনাফিকুন
পরবর্তী সূরা → সূরা আত-তালাক

নামকরণ

সূরার ৯নং আয়াতে () কথাটির () শব্দটিকে নাম হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে । অর্থাৎ এটি সেই সূরা যার মধ্যে () শব্দটি আছে ।
নাযিল হওয়ার সময় -কাল

মুকাতিল এবং কালবী বলেন, সূরাটির কিছু অংশ মক্কায় এবং কিছু অংশ মদীনায় অবতীর্ণ । হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস এবং আতা ইবনে ইয়াসির বলেনঃ প্রথম থেকে ১৩ আয়াত পর্যন্ত মক্কায় অবতীর্ণ এবং ১৪ আয়াত থেকে শেষ পর্যন্ত মদীনায় অবতীর্ণ । কিন্তু অধিকাংশ মুফাসিস্সিরের মতে সম্পূর্ণ সূরাটি মদীনায় অবতীর্ণ । যদিও সূরার মধ্যে এমন কোন ইশারা -ইংগীত পাওয়া যায় না । যার ভিত্তিতে এর নাযিল হওয়ার সময়-কাল নির্দিষ্ট করা যেতে পারে । তবে এর বিষয়বস্তু নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করলে অনুমতি হয় যে, সম্ভবত সূরাটি মাদানী যুগের প্রথমদিকে নাযিল হয়ে থাকবে । এ কারণে সূরাটিতে কিছুটা মক্কী সূরার বৈশিষ্ট এবং কিছুটা মাদানী সূরার বৈশিষ্ট পরিলক্ষিত হয় ।

বিষয়বস্তু ও মূল বক্তব্য

এ সূরার বিষয়বস্তু হচ্ছে ঈমান ও আনুগত্যের দাওয়াত এবং উত্তম নৈতিক চরিত্রের শিক্ষা দেয়া । বক্তব্যের ধারাক্রম হচ্ছেঃ প্রথম চার আয়াতে গোটা মানব জাতিকে সম্বোধন করা হয়েছে । ৫ থেকে ১০ আয়াতে যারা কুরেআনের দাওয়াত মানে না তাদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে এবং যারা কুরআনের এ দাওয়াতকে মেনে নিয়েছে ১১ আয়াত থেকে সুরার শেষ পর্যন্ত আয়াতগুলোতে তাদেরকে সম্বোধন করে কথা বলা হয়েছে । কয়েকটি সংক্ষিপ্ত বাক্য দ্বারা গোটা মানব জাতিকে সম্বোধন করে চারটি মূল সত্য সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে । প্রথমত বলা হয়েছে , এই বিশ্ব-জাহান যেখানে তোমরা বসবাস করছো তা আল্লাহহীন নয় । বরং সর্বসময় ক্ষমতার অধিকারী এমন এক আল্লাহ এর স্রষ্টা, মালিক ও শাসক যিনি যে কোন বিচারে পূর্ণাঙ্গ এবং দোষক্রটি ও কলুষ-কালিমাহীন । এ বিশ্ব-জাহানের সবকিছুই তাঁর সে পূর্ণতা, দোষ-ত্রুটিহীনতা এবং কলূষ-কালিমাহীনতার সাক্ষ দিচ্ছি ।

দ্বিতীয়ত বলা হয়েছে, এই বিশ্ব-জাহানকে উদ্দেশ্যহীন ও অযৌক্তিকভাবে সৃষ্টি করা হয়নি । এর সৃষ্টিকর্তা একে সরাসরি সত্য, ন্যায় ও যুক্তির ভিত্তিতে সৃষ্টি করেছেন । এখানে এরূপ ভ্রান্ত ধারণায় লিপ্ত থেকো না যে, এই বিশ্ব-জাহান অর্থহীন এক তামাশা, উদ্দেশ্যহীনভাবে এর সূচনা হয়েছে এবং উদ্দেশ্যহীনভাবে তা শেষ হয়ে যাবে ।

তৃতীয়ত বলা হয়েছে, আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে সর্বোত্তম আকৃতি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এবং কুফর ও ঈমান গ্রহণ কর বা না করার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন । এটা কোন নিষ্ফল ও অর্থহীন ব্যাপার নয় যে, তোমার কুফরী অবলম্বন করো আর ঈমান অবলম্বন করো কোন অবস্থাতেই এর কোন ফলাফল প্রকাশ পাবে না । তোমরা তোমাদের এই ইখতিয়াত ও স্বাধীনতাকে কিভাবে কাজে লাগাও আল্লাহ তা দেখেছেন ।

চতুর্থত বলা হয়েছে, তোমরা দায়িত্বহীন নও বা জবাবদিহির দায়-দায়িত্ব থেকে মুক্ত নও । শেষ পর্যন্ত তোমাদেরকে তোমাদের স্রষ্টার কাছে ফিরে যেতে হবে এবং সেই সত্তার সম্মুখীন হতে হবে যিনি বিশ্ব-জাহানের সবকিছু সম্পর্কেই অবহিত । তোমাদের কোন কথাই তাঁর কাছে গোপন নয়, মনের গহনে লুক্কায়িত ধ্যান -ধারণা পর্যন্ত তাঁর কাছে সমুজ্জল ও সুস্পষ্ট ।

বিশ্ব-জাহান এবং মানুষের প্রকৃত অবস্থান ও মর্যাদা সম্পর্কে এই চারটি মৌলিক কথা বর্ণনা করার পর বক্তব্যের মোড় সেই সব লোকদের প্রতি ঘুরে গিয়েছে যারা কুফরীর পথ অবলম্বন করেছে । ইতিহাসের সেই দৃশ্যপটের প্রতি তাদের মনোযোগ ও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে যা মানব ইতিহাসে একের পর এক দেখা যায় । অর্থাৎ এক জাতির পতনের পর আরেক জাতির উত্থান ঘটে এবং অবশেষে সে জাতিও ধ্বংস হয়ে যায় । মানুষ তার বিবেক -বুদ্ধির মাপকাঠিতে ইতিহাসের এ দৃশ্যপটে হাজারো কারণ উল্লেখ করে আসছে । কিন্তু আল্লাহ তা’আলা এর পেছনে কার্যকর প্রকৃত সত্য তুলে ধরেছেন । তা হচ্ছে, জাতিসমূহের ধ্বংসের মৌলিক কারণ শুধু দুটিঃ

একটি কারণ হলো, আল্লাহ তা’আলা তাদের হিদায়াতের জন্য যেসব রসূল পাঠিয়েছিলেন তারা তাদের কাথা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে । ফল হয়েছে এই যে, আল্লাহ তা’আলাও তাদেরকে তাদের অবস্থার ওপর ছেড়ে দিয়েছেন । ফলে তারা নানা রকম দার্শনিক তত্ত্ব রচনা করে একটি গোমরাহী ও বিভ্রান্তি থেকে আরেকটি গোমরাহী ও বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত হয়েছে ।

দুইঃ তারা আখেরাতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করার ব্যাপারটিও প্রত্যাখ্যান করেছে এবং নিজেদের ধ্যান-ধারণা অনুসারে মনে করে নিয়েছে যে, এই দুনিয়ার জীবনই সবকিছু । এ জীবন ছাড়া এমন আর কোন জীবন নেই যেখানে আল্লাহর সামনে আমাদের সব কাজের জবাবদিহি করতে হবে । এই ধ্যান-ধারণা ও বিশ্বাস তাদের জীবনের সমস্ত আচার-আচরণকে বিকৃত করে দিয়েছে । তাদের নৈতিক চরিত্র, কর্মের কলুষতা ও নোংরামি এতদূর বৃদ্ধি পেয়েছে যে শেষ পর্যন্ত আল্লাহর আযাব এসে তাদের অস্তিত্ব থেকে দুনিয়াকে পবিত্র ও ক্লেদমুক্ত করেছে । মানব ইতিহাসের এ দুটি শিক্ষামূলক বাস্তব সত্যকে তুলে ধরে ন্যায় ও সত্য অস্বীকারকারীদের আহবান জানানো হচ্ছে যাতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে । আর তারা যদি অতীত জাতিসমূহের অনুরূপ পরিণামের সম্মুখীন হতে না চায় তাহলে আল্লাহ তার রসূল এবং কুরআন মজীদ আকারে হিদায়াতের যে আলোকবর্তিকা আল্লাহ দিয়েছেন তার প্রতি যেন ঈমান আনে । সাথে সাথে তাদেরকে এ বিষয়ে সাবধান করা হয়েছে যে, সেদিন অবশ্যই আসবে যখন আগের ও পরের সমস্ত মানুষকে একত্র করা হবে এবং তোমাদের প্রত্যেকের হার -জিতের বিষয়টি সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে । তারপর কে ঈমান ও সৎকাজের পথ অবলম্বন করেছিল আর কে কুফর ও মিথ্যার পথ অনুসরণ করেছিল তার ভিত্তিতেই সমস্ত মানুষের ভাগ্যের চূড়ান্ত ফায়সালা করা হবে । প্রথম দলটি চিরস্থায়ী জান্নাতের অধিকারী হবে এবং দ্বিতীয় দলটির ভাগে পড়বে স্থায়ী জাহান্নাম ।

এরপর ঈমানের পথ অনুসরণকারীদের উদ্দেশ্য করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছেঃ

একঃ দুনিয়াতে যে বিপদ -মুসিবত আসে তা আল্লাহর অনুমতি ও অনুমোদনক্রমেই আসে । এরূপ পরিস্থিতিতে যে ব্যক্তি ঈমানের ওপর অবিচল থাকে আল্লাহ তার দিলকে হিদায়াত দান করেন । কিন্তু যে ব্যক্তি অস্থির ও ক্রোধান্বিত হয়ে ঈমানের পথ থেকে সরে যাবে, তার বিপদ-মুসিবত তো মূলত আল্লাহর অনুমতি ও অনুমোদন ছাড়া দূরীভূত হবে না; তবে সে আরো একটি বড় মুসিবত ডেকে আনবে । তাহলো, তার মন আল্লাহর হিদায়াত থেকে বঞ্চিত হয়ে যাবে ।

দুইঃ শুধু ঈমান গ্রহণ করাই মু’মিনের কাজ নয় । বরং ঈমান গ্রহণ করার পর তার উচিত কার্যত আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করা । সে যদি আনুগত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে নিজের ক্ষতির জন্য সে নিজেই দায়ী হবে । কেননা, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সত্য বিধান পৌছিয়ে দিয়ে দায়িত্বমুক্ত হয়ে গিয়েছেন ।

তিনঃ এক মু’মিন বান্দার ভরসা ও নির্ভরতা নিজের শক্তি অথবা পৃথিবীর অন্য কোন শক্তির ওপর না হয়ে কেবল আল্লাহর ওপর হতে হবে ।

চারঃ মু’মিনের জন্য তার অর্থ-সম্পদ, পরিবার-পরিজন, ওসন্তান-সন্তুতি একটা বড় পরীক্ষা । কারণ ঔগুলোর ভালবাসাই মানুষকে ঈমান ও আনুগত্যের পথ থেকে ফিরিয়ে রাখে । সে জন্য ঈমানদার ব্যক্তিকে তার পরিবার -পরিজন ও সন্তান-সন্তুতি সম্পর্কে সাবধান থাকতে হবে যাতে করে তারা পরোক্ষ কোনভাবেই তাদের জন্যআল্লাহর পথের ডাকাত ও লুটেরা হয়ে না বসে । তাছাড়া তাদের উচিত অর্থ-সম্পদ আল্লাহর পথে খরচ করা যাতে তাদের মন-মানসিকতা অর্থ পূজার ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকে ।

পাঁচঃ প্রত্যেক মানুষ তার সাধ্যানুসারে শরীয়াতের বিধি-বিধান পালনের জন্য আদিষ্ট । আল্লাহ তা’আলা মানুষের কাছে তার শক্তি ও সামর্থের অধিক কিছু করার দাবী করেন না । তবে একজন মু’মিনের যা করা উচিত তাহলো, সে তার সাধ্যমত আল্লাহকে ভয় করে জীবন যাপন করতে কোন ত্রুটি করবে না এবং তার কথা, কাজ ও আচার-আচরণ তার নিজের ত্রুটি ও অসাবধানতার জন্য যেন আল্লাহর নির্ধারিত সমীসমূহ অতিক্রম না করে ।

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
আরবি উচ্চারণ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বাংলা অনুবাদ পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। يُسَبِّحُ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ64.1
আরবি উচ্চারণ ৬৪.১। ইয়ুসাব্বিহু লিল্লা-হি মা-ফিস্ সামা-ওয়া-তি অমা-ফিল্ র্আদ্বি লাহুল্ মুল্কু অলাহুল্ হাম্দু অহুওয়া ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন্ ক্বর্দী। বাংলা অনুবাদ ৬৪.১ যা কিছু রয়েছে আসমানসমূহে এবং যা কিছু রয়েছে যমীনে, সবই আল্লাহর জন্য পবিত্রতা ঘোষণা করে। বাদশাহী তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই। তিনি সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান। هُوَ الَّذِي خَلَقَكُمْ فَمِنْكُمْ كَافِرٌ وَمِنْكُمْ مُؤْمِنٌ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ64.2
আরবি উচ্চারণ ৬৪.২। হুওয়াল্ লাযী খলাক্বকুম্ ফামিন্কুম্ কা-ফিরুঁও অমিন্কুম্ মু”মিন্; অল্লা-হু বিমা-তা’মালূনা বার্ছী। বাংলা অনুবাদ ৬৪.২ তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তোমাদের মধ্যে কতক কাফির এবং কতক মুমিন। আর তোমরা যে আমল করছ আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা। خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ وَصَوَّرَكُمْ فَأَحْسَنَ صُوَرَكُمْ وَإِلَيْهِ الْمَصِيرُ643
আরবি উচ্চারণ ৬৪.৩। খলাক্বস্ সামা- ওয়া- তি অল্ র্আদ্বোয়া বিল্হাকক্বি অছোয়াওয়্যারকুম্ ফাআহ্সানা ছুঅরকুম্ অইলাইহিল্ মার্ছী। বাংলা অনুবাদ ৬৪.৩ তিনি আসমানসমূহ ও যমীনকে যথার্থভাবে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদেরকে আকৃতি দান করেছেন এবং সুন্দর করেছেন তোমাদের আকৃতি। আর প্রত্যবর্তন তো তাঁরই নিকট। يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَيَعْلَمُ مَا تُسِرُّونَ وَمَا تُعْلِنُونَ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ 64.4
আরবি উচ্চারণ ৬৪.৪। ইয়া’লামু মা-ফিস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বি অ ইয়া’লামূ মা-তুর্সিরূনা অমা-তু’লিনূন্; অল্লা-হু ‘আলীমুম্ বিযা-তিছ্ ছুর্দূ। বাংলা অনুবাদ ৬৪.৪ আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে তিনি তা জানেন এবং তিনি জানেন যা তোমরা গোপন কর এবং যা তোমরা প্রকাশ কর। আল্লাহ অন্তরসমূহে যা কিছু আছে সে বিষয়ে সম্যক জ্ঞাত। أَلَمْ يَأْتِكُمْ نَبَأُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ قَبْلُ فَذَاقُوا وَبَالَ أَمْرِهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ64.5 আরবি উচ্চারণ ৬৪.৫। আলাম্ ইয়াতিকুম্ নাবায়ুল্লাযীনা কাফারূ মিন্ ক্বব্লু ফাযা-কু অবা-লা আম্রিহিম্ অলাহুম্ ‘আযা-বুন্ আলীম্। বাংলা অনুবাদ ৬৪.৫ ইতঃপূবের্ যারা কুফরী করেছে, তাদের সংবাদ কি তোমাদের নিকট পৌঁছেনি। তারা তাদের কর্মের মন্দ পরিণাম আস্বাদন করেছিল এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রনাদায়ক আযাব। ذَلِكَ بِأَنَّهُ كَانَتْ تَأْتِيهِمْ رُسُلُهُمْ بِالْبَيِّنَاتِ فَقَالُوا أَبَشَرٌ يَهْدُونَنَا فَكَفَرُوا وَتَوَلَّوْا وَاسْتَغْنَى اللَّهُ وَاللَّهُ غَنِيٌّ حَمِيدٌ64.6
আরবি উচ্চারণ ৬৪.৬। যা-লিকা বিআন্নাহূ কা-নাত্ তাতীহিম্ রুসুলুহুম্ বিল্বাইয়্যিনা-তি ফাক্ব-লূ য় আবাশারুঁই ইয়াহ্দূনানা- ফাকাফারূ অতাওয়াল্লাওঁ অস্তাগ্নাল্লা-হ্; অল্লা-হু গনিইয়ুন্ হামীদ্। বাংলা অনুবাদ ৬৪.৬ এটি এ জন্য যে, তাদের রাসূলগণ তাদের নিকট সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে আসত, অথচ তারা বলত, মানুষই কি আমাদের পথ প্রদর্শন করবে? অতঃপর তারা কুফরী করল এবং মুখ ফিরিয়ে নিল। আর আল্লাহ বে-পরওয়াই দেখালেন এবং আল্লাহ অভাবমুক্ত পরম, প্রশংসিত। زَعَمَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنْ لَنْ يُبْعَثُوا قُلْ بَلَى وَرَبِّي لَتُبْعَثُنَّ ثُمَّ لَتُنَبَّؤُنَّ بِمَا عَمِلْتُمْ وَذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ64.7
আরবি উচ্চারণ ৬৪.৭। যা‘আমাল্লাযীনা কাফারূ য় আল্লাইঁ ইয়ুব্‘আছূ; কুল্ বালা- অরব্বী লাতুব্‘আছুন্না ছুম্মা লাতুনাব্বায়ুন্না বিমা-‘আমিল্তুম্; অযা-লিকা ‘আলাল্লা-হি ইয়ার্সী। বাংলা অনুবাদ ৬৪.৭ কাফিররা ধারণা করেছিল যে, তারা কখনোই পুনরুত্থিত হবে না। বল, ‘হ্যা, আমার রবের কসম, তোমরা অবশ্যই পুনরুত্থিত হবে। অতঃপর তোমরা যা আমল করেছিলে তা অবশ্যই তোমাদের জানানো হবে। আর এটি আল্লাহর পক্ষে খুবই সহজ। فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَالنُّورِ الَّذِي أَنْزَلْنَا وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ 64.8
আরবি উচ্চারণ ৬৪.৮। ফাআ-মিনূ বিল্লা-হি অরসূলিহী অন্নূ রিল্লাযী য় আন্যাল্না-; অল্লা-হু বিমা-তা’মালূনা খর্বী। বাংলা অনুবাদ ৬৪.৮ অতএব তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের এবং আমি যে নূর অবতীর্ণ করেছি তার প্রতি ঈমান আন। আর তোমরা যে আমল করছ আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত। يَوْمَ يَجْمَعُكُمْ لِيَوْمِ الْجَمْعِ ذَلِكَ يَوْمُ التَّغَابُنِ وَمَنْ يُؤْمِنْ بِاللَّهِ وَيَعْمَلْ صَالِحًا يُكَفِّرْ عَنْهُ سَيِّئَاتِهِ وَيُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ64.9
আরবি উচ্চারণ ৬৪.৯। ইয়াওমা ইয়াজমা‘ঊকুম্ লিইয়াওমিল্ জ্বাম্‘ই যা-লিকা ইয়াওমুত্তাগ-বুন্; অমাইঁ ইয়ুমিম্ বিল্লা-হি অইয়া’মাল্ ছোয়া-লিহাইঁ ইয়ুকার্ফ্ফি ‘আন্হু সাইয়িয়া-তিহী অ ইয়ুদ্খিল্হু জ্বান্না-তিন্ তাজরী মিন্ তাহ্তিহাল্ আন্হা-রু খা- লিদীনা ফীহা য় আবাদা-; যা-লিকাল্ ফাওযুল্ ‘আজীম্। বাংলা অনুবাদ ৬৪.৯ স্মরণ কর, যেদিন সমাবেশ দিবসের উদ্দেশ্যে আল্লাহ তোমাদের সমবেত করবেন, ঐ দিনই হচ্ছে লাভ-ক্ষতির দিন। আর যে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তিনি তার পাপসমূহ মোচন করে দিবেন এবং তাকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতসমূহে, যার পাদদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হয়, তথায় তারা স্থায়ী হবে। এটাই মহাসাফল্য। وَالَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا أُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ خَالِدِينَ فِيهَا وَبِئْسَ الْمَصِيرُ64.10
আরবি উচ্চারণ ৬৪.১০। অল্লাযীনা কাফারূ অকায্যাবূ বিআ-ইয়া-তিনা য় উলা-য়িকা আছ্হা-বুন্ না-রি খ-লিদীনা ফীহা-; অবিসাল্ মার্ছী। বাংলা অনুবাদ ৬৪.১০ কিন্তু যারা কুফরী করে এবং আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে তারাই জাহান্নামের অধিবাসী। তথায় তারা স্থায়ী হবে। আর তা কতইনা নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল। مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ وَمَنْ يُؤْمِنْ بِاللَّهِ يَهْدِ قَلْبَهُ وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ64.11
আরবি উচ্চারণ ৬৪.১১। মা য় আছোয়া-বা মিম্ মুছীবাতিন্ ইল্লা-বিইয্নিল্লা-হ্; অমাইঁ ইয়ুমিম্ বিল্লা-হি ইয়াহ্দি ক্বল্বাহ্; অল্লা-হু বিকুল্লি শাইয়িন্ ‘আলীম্। বাংলা অনুবাদ ৬৪.১১ আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোন বিপদই আপতিত হয় না। যে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, আল্লাহ তার অন্তরকে সৎপথে পরিচালিত করেন। আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ে সর্বজ্ঞ। وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ فَإِنْ تَوَلَّيْتُمْ فَإِنَّمَا عَلَى رَسُولِنَا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ64.12
আরবি উচ্চারণ ৬৪.১২। অআত্বী ‘ঊল্লা-হা অআত্বী ‘র্উ রসূলা ফাইন্ তাওয়াল্লাইতুম্ ফাইন্নামা-‘আলা-রসূলিনাল্ বালাগুল্ মুবীন্। বাংলা অনুবাদ ৬৪.১২ তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর। কিন্তু তোমরা যদি মখু ফিরিয়ে নাও, তবে আমার রাসূলের তো একমাত্র দায়িত্ব হচ্ছে স্পষ্টভাবে বাণী পৌঁছে দেয়া। اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ64.13
আরবি উচ্চারণ ৬৪.১৩। আল্লাহু লা য় ইলা-হা ইল্লা-হূ; অ ‘আলাল্লা-হি ফাল্ ইয়াতাওয়াক্কালিল্ মু’মিনূন্। বাংলা অনুবাদ ৬৪.১৩ আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং আল্লাহর উপরই মুমিনরা যেন তাওয়াক্কুল করে। يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ وَأَوْلَادِكُمْ عَدُوًّا لَكُمْ فَاحْذَرُوهُمْ وَإِنْ تَعْفُوا وَتَصْفَحُوا وَتَغْفِرُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ64.14 আরবি উচ্চারণ ৬৪.১৪। ইয়া য় আইয়্যুহা ল্লাযীনা আ-মানূ য় ইন্না মিন্ আয্ওয়া-জ্বিকুম্ অআওলা-দিকুম্ ‘আদুওয়্যাল্লাকুম্ ফাহ্যারূ হুম্ অইন্ তা’ফূ অতাছ্ফাহূ অতাগ্ফিরূ ফাইন্নাল্লা-হা গফূর্রু রহীম্। বাংলা অনুবাদ ৬৪.১৪ হে মুমিনগণ, তোমাদের স্বামী-স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততিদের কেউ কেউ তোমাদের দুশমন। অতএব তোমরা তাদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন কর। আর যদি তোমরা মার্জনা কর, এড়িয়ে যাও এবং মাফ করে দাও তবে নিশ্চয় আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, অসীম দয়ালু। إِنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلَادُكُمْ فِتْنَةٌ وَاللَّهُ عِنْدَهُ أَجْرٌ عَظِيمٌ64.15 আরবি উচ্চারণ ৬৪.১৫। ইন্নামা য় আম্ওয়া লুকুম্ অআওলা-দুকুম্ ফিত্নাহ্; অল্লা-হু ‘ইন্দাহূ য় আজরুন্ ‘আজীম্। বাংলা অনুবাদ ৬৪.১৫ তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তো কেবল পরীক্ষা বিশেষ। আর আল্লাহর নিকটই মহান প্রতিদান। فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ وَاسْمَعُوا وَأَطِيعُوا وَأَنْفِقُوا خَيْرًا لِأَنْفُسِكُمْ وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ64.16 আরবি উচ্চারণ ৬৪.১৬। ফাত্তাকুল্লা-হা মাস্তাত্বোয়া’তুম্ অস্মাঊ’ অআত্বী‘ঊ অআন্ফিকু খইরল্ লিআন্ফুসিকুম্; অ মাইঁ ইয়ূক্ব শুহ্হা নাফ্সিহী ফাউলা-য়িকা হুমুল্ মুফলিহূন্। বাংলা অনুবাদ ৬৪.১৬ অতএব তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় কর, শ্রবণ কর, আনুগত্য কর এবং তোমাদের নিজদের কল্যাণে ব্যয় কর, আর যাদেরকে অন্তরের কাপর্ণ্য থেকে রক্ষা করা হয়, তারাই মূলত সফলকাম। إِنْ تُقْرِضُوا اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا يُضَاعِفْهُ لَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ شَكُورٌ حَلِيمٌ64.17
আরবি উচ্চারণ ৬৪.১৭। ইন্ তুকরিদু ল্লা-হা র্ক্বাদ্বোয়ান্ হাসানাইঁ ইয়ুদ্বোয়া-ই’ফ্হু লাকুম্ অ ইয়ার্গ্ফি লাকুম্; অল্লা-হু শাকূরুন্ হালীম্। বাংলা অনুবাদ ৬৪.১৭ যদি তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও, তিনি তা তোমাদের জন্য দ্বিগুন করে দিবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ গুণগ্রাহী, পরম ধৈর্যশীল। عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ 64.18
আরবি উচ্চারণ ৬৪.১৮। আ’লিমুল্ গইবি অশ্শাহা- দাতিল্ ‘আযীযুল্ হাকীম্। বাংলা অনুবাদ ৬৪.১৮ দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানধারী, মহাপরাক্রমশালী।

About Abdul Latif Sheikh

Check Also

idf image

সুরা আল ইমরান আয়াত ১০২-১০৫ এর তাফসির

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰهَ حَقَّ تُقٰتِهٖ وَ لَا تَمُوۡتُنَّ اِلَّا وَ اَنۡتُمۡ مُّسۡلِمُوۡنَ  وَ …

সুরা ইখলাস এর ফযিলত

সুরা আন আনফাল

সুরা আন আনফাল নামের অর্থঃ যুদ্ধ লব্ধ সম্পদ শ্রেনীঃ মাদানী সুরা ক্রমঃ ৮ আয়াত সংখ্যাঃ …

সুরা ইখলাস এর ফযিলত

সূরা আত-তাওবাহ্‌

সূরা আত-তাওবাহ্‌ শ্রেণীঃ মাদানীনামের অর্থঃ অনুশোচনাঅন্য নামঃ আল-বারাহ্ (শাস্তি থেকে অব্যাহতি) সূরার ক্রমঃ ৯আয়াতের সংখ্যাঃ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *