Wednesday , June 19 2024

সূরা আর-রাদ

সূরা আর-রাদ

শ্রেণী: মাদানী
নামের অর্থ: বজ্রনাদ
সূরার ক্রম: ১৩
আয়াতের সংখ্যা: ৪৩
পারার ক্রম: ১৩
মঞ্জিল নং: ২৫ থেকে ২৬
সিজদাহ্‌র সংখ্যা: ১ (আয়াত ১৫)

← পূর্ববর্তী সূরা সূরা ইউসুফ
পরবর্তী সূরা → সূরা ইব্রাহীম

নামকরণঃ

তের নম্বর আয়াতের (আরবী) বাক্যাংশের “আর্‌ রা’দ” শব্দটিকে এ সূরার নাম হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এ নামকরণের মানে এ নয় যে, এ সূরায় রা’দ অর্থাৎ মেঘগর্জনের বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বরং এটা শুধু আলামত হিসেবে একথা প্রকাশ করে যে, এ সূরায় “রাদ” উল্লেখিত হয়েছে বা “রা’দ”-এর কথা বলা হয়েছে।

নাযিলের সময়-কালঃ

৪ ও ৬ রুকূ’র বিষয়বস্তু সাক্ষ দিচ্ছে, এ সূরাটিও সূরা ইউনূস, হূদ ও আ’রাফের সমসময়ে নাযিল হয়। অর্থাৎ সক্কায় অবস্থানের শেষ যুগে। বর্ণনাভংগী থেকে পরিষ্কার প্রতীয়মান হচ্ছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাওয়াত শুরু করার পর দীর্ঘকাল অতিবাহিত হয়ে গেছে। বিরোধী পক্ষ তাঁকে লাঞ্ছিত করার এবং তাঁর মিশনকে ব্যর্থ করে দেবার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে থাকে। মুমিনরা বারবার এ আকাংখা পোষণ করতে থাকে, হায়! যদি কোন প্রকার অলৌকিক কান্ড-কারখানার মাধ্যমে এ লোকগুলোকে সত্য সরল পথে আনা যায়। অন্যদিকে আল্লাহ মুসলমানদেরকে এ মর্মে বুঝাচ্ছেন যে, ঈমানের পথ দেখাবার এ পদ্ধতি আমার এখানে প্রচলিত নেই আর যদি ইসলামের শত্রুদের রশি ঢিলে করে দেয়া হয়ে থাকে তাহলে এটা এমন কোন ব্যাপার নয় যার ফলে তোমরা ভয় পেয়ে যাবে। তারপর ৩১ আয়াত থেকে জানা যায়, বার বার কাফেরদের হঠকারিতার এমন প্রকাশ ঘটেছে যারপর ন্যায়সংগতভাবে একথা বলা যায় যে, যদি কবর থেকে মৃত ব্যক্তিরাও উঠে আসেন তাহলেও এরা মেনে নেবে না বরং এ ঘটনার কোন না কোন ব্যাখ্যা করে নেবে। এসব কথা থেকে অনুমান করা যায় যে, এ সূরাটি মক্কার শেষ যুগে নাযিল হয়ে থাকবে।

কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তুঃ

সূরার মূল বক্তব্য প্রথম আয়াতেই বলে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা কিছু পেশ করছেন তাই সত্য কিন্তু এ লোকেরা তা মেনে নিচ্ছে না, এটা এদের ভুল। এ বক্তব্যই সমগ্র ভাষণটির কেন্দ্রীয় বিষয়। এ প্রসংগে বার বার বিভিন্ন পদ্ধতিতে তাওহীদ, রিসালাত ও পরকালের সত্যতা প্রমাণ করা হয়েছে। এগুলোর প্রতি ঈমান আনার নৈতিক ও আধ্যাত্মিক ফায়দা বুঝানো হয়েছে। এগুলো অস্বীকার করার ক্ষতি জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এ সংগে একথা মনের মধ্যে গেঁথে দেয়া হয়েছে যে, কুফরী আসলে পুরোপুরি একটি নির্বুদ্ধিতা ও মূর্খতা ছাড়া আর কিছুই নয়। তারপর এ সমগ্র বর্ণনাটির উদ্দেশ্য শুধুমাত্র বুদ্ধি-বিবেককে দীক্ষিত করা নয় বরং মনকে ঈমানের দিকে আকৃষ্ট করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য। তাই নিছক বুদ্ধিবৃত্তিক দলীল-প্রমাণ পেশ করেই শেষ করে দেয়া হয়নি, এসংগে এক একটি দলীল এ এক একটি প্রমাণ পেশ করার পর থেমে গিয়ে নানা প্রকার ভীতি প্রদর্শন, উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি এবং স্নেহপূর্ণ ও সহানুভূতিশীল উপদেশ প্রদানের মাধ্যমে অজ্ঞ লোকদের নিজেদের বিভ্রান্তিকর হঠকারিতা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

ভাষণের মাঝখানে বিভিন্ন জায়গায় বিরোধীদের আপত্তিসমূহের উল্লেখ না করেই তার জবাব দেয়া হয়েছে। মুহাম্মাদ (সাঃ) এর দাওয়াতের ব্যাপারে লোকদের মনে যেসব সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিল অথবা বিরোধীদের পক্ষ থেকে সৃষ্টি করা হচ্ছিল সেগুলো দূর করা হয়েছে। এ সংগে মুমিনরা কয়েক বছরের দীর্ঘ ও কঠিন সংগ্রামের কারণে ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত হয়ে পড়ছিল এবং অস্থির চিত্তে অদৃশ্য সাহায্যের প্রতীক্ষা করছিল, তাই তাদেরকে সান্ত্বনা দেয়া হয়েছে।

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

আরবি উচ্চারণ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বাংলা অনুবাদ পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)। المر تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ وَالَّذِي أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ الْحَقُّ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يُؤْمِنُونَ13.1 আরবি উচ্চারণ ১৩. ১। আলিফ্ লা-ম্ মী-ম্ র-; তিল্কা আ-ইয়াতুল কিতাব্; অল্লাযী য় উন্যিলা ইলাইকা র্মি রব্বিকাল্ হাক্বক্বু অলা-কিন্না আক্ছারন্না-সি লা-ইয়ুমিনূ ন্। বাংলা অনুবাদ ১৩.১ আলিফ- লাম- মীম- রা; এগুলো কিতাবের আয়াত, আর তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার উপর যা কিছু নাযিল হয়েছে তা সত্য, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ ঈমান আনে না। اللَّهُ الَّذِي رَفَعَ السَّمَاوَاتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِي لِأَجَلٍ مُسَمًّى يُدَبِّرُ الْأَمْرَ يُفَصِّلُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ بِلِقَاءِ رَبِّكُمْ تُوقِنُونَ 13.2 আরবি উচ্চারণ ১৩. ২। আল্লা-হুল্লাযী রফা‘আস্ সামা-ওয়া-তি বিগইরি ‘আমাদিন্ তারাওনাহা- ছুম্মাস্ তাওয়া-‘আলাল্ ‘আরশি অসাখ্খরাশ্ শাম্সা অল্ ক্বর্মা; কুল্লুঁই ইয়াজুরী লিআজ্বালিম্ মুসাম্মা; ইয়ুদাব্বিরুল্ আম্র ইয়ুফাছ্ছিলুল্ আ-ইয়া-তি লা‘আল্লাকুম্ বিলিক্ব-য়ি রব্বিকুম্ তূক্বিনূন্। বাংলা অনুবাদ ১৩.২ আল্লাহ, যিনি খুঁটি ছাড়া আসমানসমূহ উঁচু করেছেন যা তোমরা দেখছ। অতঃপর তিনি আরশে উঠেছেন এবং সূর্য ও চাঁদকে নিয়োজিত করেছেন। এর প্রত্যেকটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চলবে। তিনি সবকিছু পরিচালনা করেন। আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করেন, যাতে তোমাদের রবের সাক্ষাতের ব্যাপারে তোমরা দৃঢ়বিশ্বাসী হতে পার। وَهُوَ الَّذِي مَدَّ الْأَرْضَ وَجَعَلَ فِيهَا رَوَاسِيَ وَأَنْهَارًا وَمِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ جَعَلَ فِيهَا زَوْجَيْنِ اثْنَيْنِ يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ13.3 আরবি উচ্চারণ ১৩. ৩। অ হুঅল্লাযী মাদ্দাল্ র্আদ্বোয়া অজ্বা‘আলা ফীহা- রওয়া-সিয়া অ আন্হা-র-; অমিন্ কুল্লিছ্ ছামার-তি জ্বা‘আলা ফীহা-যাওজ্বাইনিছ্ নাইনি ইয়ুগ্শিল্ লাইলান্নাহার্-; ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-ইয়া-তিল লিক্বওমিঁ ইয়াতাফাক্কারূন্। বাংলা অনুবাদ ১৩.৩ আর তিনিই যমীনকে বিস্তৃত করেছেন এবং তাতে সুদৃঢ় পর্বতমালা ও নদ-নদী স্থাপন করেছেন। আর প্রত্যেক প্রকারের ফল তিনি জোড়া জোড়া করে সৃষ্টি করেছেন। তিনি রাত দ্বারা দিনকে ঢেকে দেন। নিশ্চয় যে কওম চিন্তাভাবনা করে তাদের জন্য এতে নিদর্শনাবলী রয়েছে। وَفِي الْأَرْضِ قِطَعٌ مُتَجَاوِرَاتٌ وَجَنَّاتٌ مِنْ أَعْنَابٍ وَزَرْعٌ وَنَخِيلٌ صِنْوَانٌ وَغَيْرُ صِنْوَانٍ يُسْقَى بِمَاءٍ وَاحِدٍ وَنُفَضِّلُ بَعْضَهَا عَلَى بَعْضٍ فِي الْأُكُلِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ13.4 আরবি উচ্চারণ ১৩. ৪। অফিল্ র্আদ্বি ক্বিত্বোয়া‘ঊম্ মুতাজ্বা-ওয়ির-তুঁও অজ্বান্নাতুম্ মিন্ আ’না-বিঁও ওয়া যার‘ঊওঁ অনাখীলুন্ ছিন্ওয়া-নুওঁ অ গইরু ছিনওয়া-নিইঁ ইউস্ক্ব-বিমা-ইঁও অ-হিদিন্ অনুফাদ্দি¦লু বা’দ্বোয়াহা-‘আলা-বা’দ্বিন্ ফিল্ উকুল্; ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-ইয়া-তিল্লিক্বওমিঁই ইয়া’ক্বিলূন্। বাংলা অনুবাদ ১৩.৪ আর যমীনে আছে পরস্পর পাশাপাশি ভূখণ্ড, আঙ্গুর-বাগান, শস্যক্ষেত, খেজুর গাছ, যেগুলোর মধ্যে কিছু একই মূল থেকে উদগত আর কিছু ভিন্ন ভিন্ন মূল থেকে উদগত, যেগুলো একই পানি দ্বারা সেচ করা হয়, আর আমি খাওয়ার ক্ষেত্রে একটিকে অপরটির তুলনায় উৎকৃষ্ট করে দেই, এতে নিদর্শন রয়েছে ঐ কওমের জন্য যারা বুঝে। وَإِنْ تَعْجَبْ فَعَجَبٌ قَوْلُهُمْ أَئِذَا كُنَّا تُرَابًا أَئِنَّا لَفِي خَلْقٍ جَدِيدٍ أُولَئِكَ الَّذِينَ كَفَرُوا بِرَبِّهِمْ وَأُولَئِكَ الْأَغْلَالُ فِي أَعْنَاقِهِمْ وَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ13.5 আরবি উচ্চারণ ১৩. ৫। অ ইন্ তা’জ্বাব ফা‘আজ্বাবুন্ ক্বওলুহুম্ আ ইযা-কুন্না-তুর-বান্ আ ইন্না-লাফী খল্ক্বিন্ জ্বাদীদ্; উলা-য়িকাল্লাযীনা কাফারূ বিরব্বীহিম্ অউলা-য়িকাল্ আগ্লা-লু ফী য় আ’না-ক্বিহিম্, অউলা-য়িকা আছ্হা-বু ন্না-রি হুম্ ফীহা-খা-লিদূন্। বাংলা অনুবাদ ১৩.৫ আর যদি তুমি আশ্চর্য বোধ কর, তাহলে আশ্চর্যজনক হল তাদের এ বক্তব্য, ‘আমরা যখন মাটি হয়ে যাব, তখন কি আমরা নতুন সৃষ্টিতে পরিণত হব’? এরাই তারা, যারা তাদের রবের সাথে কুফরী করেছে, আর ওদের গলায় থাকবে শিকল এবং ওরা অগ্নিবাসী, তারা সেখানে স্থায়ী হবে। وَيَسْتَعْجِلُونَكَ بِالسَّيِّئَةِ قَبْلَ الْحَسَنَةِ وَقَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِمُ الْمَثُلَاتُ وَإِنَّ رَبَّكَ لَذُو مَغْفِرَةٍ لِلنَّاسِ عَلَى ظُلْمِهِمْ وَإِنَّ رَبَّكَ لَشَدِيدُ الْعِقَابِ13.6 আরবি উচ্চারণ ১৩. ৬। অ ইয়াস্তা’জ্বিলূনাকা বিস্সাইয়িয়াতি ক্বব্লাল্ হাসানাতি অক্বদ খলাত্ মিন্ ক্বব্লিহিমুল্ মাছুলা-ত্;অ ইন্না রব্বাকা লাযূ মাগ্ফিরাতি ল্লিন্না-সি ‘আলা-জুল্মিহিম্ অইন্না রব্বাকা লাশাদীদুল্ ই’ক্বা-ব্। বাংলা অনুবাদ ১৩.৬ আর তারা তোমার কাছে ভালোর পূর্বে মন্দের জন্য তাড়াহুড়া করে, অথচ তাদের পূর্বে অনেক (অনুরূপ লোকদের) আযাব গত হয়েছে। আর নিশ্চয় তোমার রব মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল তাদের যুলম সত্ত্বেও এবং নিশ্চয় তোমার রব কঠিন আযাবদাতা। وَيَقُولُ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْلَا أُنْزِلَ عَلَيْهِ آيَةٌ مِنْ رَبِّهِ إِنَّمَا أَنْتَ مُنْذِرٌ وَلِكُلِّ قَوْمٍ هَادٍ 13.7 আরবি উচ্চারণ ১৩. ৭। অইয়াক্বুলুল্লাযীনা কাফারূ লাওলা য় উন্যিলা ‘আলাইহি আ-ইয়াতুম্ র্মি রব্বিহ্; ইন্নামা য় আন্তা মুন্যিরুঁও অলিকুল্লি ক্বওমিন্ হা-দ্। বাংলা অনুবাদ ১৩.৭ আর যারা কুফরী করেছে, তারা বলে, ‘তার উপর তার রবের পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন নাযিল হয় না কেন’? তুমি তো কেবল সতর্ককারী, আর প্রত্যেক কওমের জন্য রয়েছে। হিদায়াতকারী। اللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَحْمِلُ كُلُّ أُنْثَى وَمَا تَغِيضُ الْأَرْحَامُ وَمَا تَزْدَادُ وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ بِمِقْدَارٍ13.8 আরবি উচ্চারণ ১৩. ৮। আল্লা-হু ইয়া’লামু মা-তাহ্মিলু কুল্লু উন্ছা-অমা-তাগীদ্বুল্ র্আহা-মু অমা-তায্দা-দ্; অ কুল্লু শাইয়িন্ ‘ইন্দাহূ বিমিক্বদার্-। বাংলা অনুবাদ ১৩.৮ আল্লাহ জানেন যা প্রতিটি নারী গর্ভে ধারণ করে এবং গর্ভাশয়ে যা কমে ও বাড়ে। আর তাঁর নিকট প্রতিটি বস্তু নির্দিষ্ট পরিমাণে রয়েছে। عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ الْكَبِيرُ الْمُتَعَالِ13.9 আরবি উচ্চারণ ১৩. ৯। ‘আ-লিমুল্ গইবি অশ্শাহাদাতিল্ কাবীরুল্ মুতা‘আল্। বাংলা অনুবাদ ১৩.৯ তিনি গায়েব ও প্রকাশ্যের জ্ঞানী, মহান, সর্বোচ্চ। سَوَاءٌ مِنْكُمْ مَنْ أَسَرَّ الْقَوْلَ وَمَنْ جَهَرَ بِهِ وَمَنْ هُوَ مُسْتَخْفٍ بِاللَّيْلِ وَسَارِبٌ بِالنَّهَارِ13.10 আরবি উচ্চারণ ১৩. ১০। সাওয়া-য়ুম্ মিন্কুম্ মান্ আর্সারল্ ক্বওলা অমান্ জ্বাহারা বিহী অমান্ হুঅ মুস্তাখ্ফিম্ বিল্লাইলি অসা-রিবুম্ বিন্নাহার্-। বাংলা অনুবাদ ১৩.১০ তোমাদের মধ্যে কেউ কথা গোপন রাখুক বা প্রকাশ করুক। আর রাতে লুকিয়ে করুক বা দিনে প্রকাশ্যে করুক, সবই তাঁর নিকট সমান। لَهُ مُعَقِّبَاتٌ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ يَحْفَظُونَهُ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّى يُغَيِّرُوا مَا بِأَنْفُسِهِمْ وَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِقَوْمٍ سُوءًا فَلَا مَرَدَّ لَهُ وَمَا لَهُمْ مِنْ دُونِهِ مِنْ وَالٍ 13.11 আরবি উচ্চারণ ১৩. ১১। লাহূ মুআ’ক্ব্ক্বিবা-তুম্ মিম্ বাইনি ইয়াদাইহি অ মিন্ খল্ফিহী ইয়াহ্ফাজূনাহূ মিন্ আম্রিল্লা-হ্; ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়ুগইয়্যিরু মা-বিক্বওমিন্ হাত্তা-ইয়ুগ্ইয়্যিরূ মা-বিআন্ফুসিহিম্; অ ইযা য় আরা-দাল্লা-হু বিক্বওমিন্ সূ য় য়ান্ ফালা-মারদ্দা লাহূ অমা-লাহুম্ মিন্ দূনিহী মিওঁ ওয়া-ল্। বাংলা অনুবাদ ১৩.১১ মানুষের জন্য রয়েছে, সামনে ও পেছনে, একের পর এক আগমনকারী প্রহরী, যারা আল্লাহর নির্দেশে তাকে হেফাযত করে। নিশ্চয় আল্লাহ কোন কওমের অবস্থা ততক্ষণ পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে। আর যখন আল্লাহ কোন জাতির মন্দ চান, তখন তা প্রতিহত করা যায় না এবং তাদের জন্য তিনি ছাড়া কোন অভিভাবক নেই। 13.12 هُوَ الَّذِي يُرِيكُمُ الْبَرْقَ خَوْفًا وَطَمَعًا وَيُنْشِئُ السَّحَابَ الثِّقَالَ আরবি উচ্চারণ ১৩. ১২। হুঅল্লাযী ইয়ুরীকুমুল্ র্বাক্ব খওফাঁও ওয়া ত্বমা‘আঁও অ ইয়ুন্শিয়ুস্ সাহা-বাছ্ ছিক্ব-ল্। বাংলা অনুবাদ ১৩.১২ তিনিই ভয় ও আশা সঞ্চার করার জন্য তোমাদেরকে বিজলী দেখান এবং তিনি ভারী মেঘমালা সৃষ্টি করেন। وَيُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ وَالْمَلَائِكَةُ مِنْ خِيفَتِهِ وَيُرْسِلُ الصَّوَاعِقَ فَيُصِيبُ بِهَا مَنْ يَشَاءُ وَهُمْ يُجَادِلُونَ فِي اللَّهِ وَهُوَ شَدِيدُ الْمِحَالِ13.13 আরবি উচ্চারণ ১৩. ১৩। অ ইয়ুসাব্বির্হু র’দু বিহাম্দিহী অল্মালা-য়িকাতু মিন্ খীফাতিহী অইর্য়ুসিলুস্ ছোয়াওয়া-‘ইক্বা ফাইয়ুছীবু বিহা-মাইঁ ইয়াশা-য়ু অ হুম্ ইয়ুজ্বা-দিলূনা ফিল্লা-হি অ হুঅ শাদীদুল্ মিহা-ল্। বাংলা অনুবাদ ১৩.১৩ আর বজ্র তার প্রশংসায় তাসবীহ পাঠ করে এবং ফেরেশতারাও তার ভয়ে। আর তিনি গর্জনকারী বজ্র পাঠান। অতঃপর যাকে ইচ্ছা তা দ্বারা আঘাত করেন এবং তারা আল্লাহ সম্বন্ধে ঝগড়া করতে থাকে। আর তিনি শক্তিতে প্রবল, শাস্তিতে কঠোর। لَهُ دَعْوَةُ الْحَقِّ وَالَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ لَا يَسْتَجِيبُونَ لَهُمْ بِشَيْءٍ إِلَّا كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ إِلَى الْمَاءِ لِيَبْلُغَ فَاهُ وَمَا هُوَ بِبَالِغِهِ وَمَا دُعَاءُ الْكَافِرِينَ إِلَّا فِي ضَلَالٍ 13.14 আরবি উচ্চারণ ১৩. ১৪। লাহূ দা’অতুল্ হাক্ব; অল্লাযীনা ইয়াদ্‘ঊনা মিন্ দূনিহী লা-ইয়াস্তাজ্বীবূনা লাহুম্ বিশাইয়িন্ ইল্লা-কাবা-সিত্বি কাফ্ফাইহি ইলাল্ মা-য়ি লিয়াব্লুগ ফা-হু অমা-হুওয়া বিবা-লিগিহ্; অমা-দু‘আ-য়ুল্ কা-ফিরীনা ইল্লা-ফী দ্বোয়ালা-ল্। বাংলা অনুবাদ ১৩.১৪ সত্যের আহ্বান তাঁরই, আর যারা তাকে ছাড়া অন্যদেরকে ডাকে, তারা তাদের ডাকে সামান্যও সাড়া দিতে পারে না, বরং (তাদের দৃষ্টান্ত) ঐ ব্যক্তির মত, যে পানির দিকে তার দু’হাত বাড়িয়ে দেয় যেন তা তার মুখে পৌঁছে অথচ তা তার কাছে পৌঁছবার নয়। আর কাফেরদের ডাক তো শুধু ভ্রষ্টতায় পর্যবসিত হয়। وَلِلَّهِ يَسْجُدُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَظِلَالُهُمْ بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ13.15 আরবি উচ্চারণ ১৩. ১৫। অ লিল্লা-হি ইয়াস্জদু মান্ ফিস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বি ত্বোয়াওআঁও অর্কাহাঁও অ জিলা-লুহুম্ বিল্ গুদুওয়্যি অল্ আ-ছোয়া-ল্। বাংলা অনুবাদ ১৩.১৫ আর আল্লাহর জন্যই আসমানসমূহ ও যমীনের সবকিছু অনুগত ও বাধ্য হয়ে সিজদা করে এবং সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের ছায়াগুলোও। قُلْ مَنْ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ قُلِ اللَّهُ قُلْ أَفَاتَّخَذْتُمْ مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ لَا يَمْلِكُونَ لِأَنْفُسِهِمْ نَفْعًا وَلَا ضَرًّا قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الْأَعْمَى وَالْبَصِيرُ أَمْ هَلْ تَسْتَوِي الظُّلُمَاتُ وَالنُّورُ أَمْ جَعَلُوا لِلَّهِ شُرَكَاءَ خَلَقُوا كَخَلْقِهِ فَتَشَابَهَ الْخَلْقُ عَلَيْهِمْ قُلِ اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ13.16 আরবি উচ্চারণ ১৩. ১৬। ক্বুল্ র্মা রব্বুস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্ব্; ক্বুলিল্লা-হ্; ক্বুল্ আফাত্তাখায্তুম্ মিন্ দূনিহী য় আউলিয়া-য়া লা-ইয়াম্লিকূনা লিআন্ফুসিহিম্ নাফ্ ‘আও অলা- দ্বোর্য়ার-;ক্বুল্ হাল্ ইয়াস্তাওয়িল্ আ’মা-অল্ বাছীরু আম্ হাল্ তাস্তাওয়িজ্ জুলুমা-তু অন্নূরু আম্ জ্বা‘আলূ লিল্লা-হি শুরাকা-য়া খলাক্বুকাখল্ক্বিহী ফাতাশা-বাহাল্ খল্ক্ব ‘আইহিম্ ক্বুলিল্লা-হু খ-লিক্বু কুল্লি শাইয়িঁও অহুঅল্ ওয়া-হিদুল্ ক্বর্হ্হা। বাংলা অনুবাদ ১৩.১৬ বল, ‘আসমানসমূহ ও যমীনের রব কে’? বল, ‘আল্লাহ’। তুমি বল, ‘তোমরা কি তাঁকে ছাড়া এমন কিছুকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করেছ, যারা তাদের নিজদের কোন উপকার অথবা অপকারের মালিক না’? বল, ‘অন্ধ ও দৃষ্টিমান ব্যক্তি কি সমান হতে পারে? নাকি অন্ধকার ও আলো সমান হতে পারে? নাকি তারা আল্লাহর জন্য এমন কতগুলো শরীক নির্ধারণ করেছে, যেগুলো তাঁর সৃষ্টির তুল্য কিছু সৃষ্টি করেছে, ফলে তাদের নিকট সৃষ্টির বিষয়টি একরকম মনে হয়েছে’? বল, ‘আল্লাহই সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা এবং তিনি এক, পরাক্রমশালী’। أَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَسَالَتْ أَوْدِيَةٌ بِقَدَرِهَا فَسَالَتْ أَوْدِيَةٌ بِقَدَرِهَا فَاحْتَمَلَ السَّيْلُ زَبَدًا رَابِيًا وَمِمَّا يُوقِدُونَ عَلَيْهِ فِي النَّارِ ابْتِغَاءَ حِلْيَةٍ أَوْ مَتَاعٍ زَبَدٌ مِثْلُهُ كَذَلِكَ يَضْرِبُ اللَّهُ الْحَقَّ وَالْبَاطِلَ فَأَمَّا الزَّبَدُ فَيَذْهَبُ جُفَاءً وَأَمَّا مَا يَنْفَعُ النَّاسَ فَيَمْكُثُ فِي الْأَرْضِ كَذَلِكَ يَضْرِبُ اللَّهُ الْأَمْثَالَ13.17 আরবি উচ্চারণ ১৩. ১৭। আন্যালা মিনাস্সামা-য়ি মা-য়ান, ফাসা-লাত্ আও দিয়াতুম্ বি ক্বদারিহা- ফাহতামালাস্ সাইলু যাবার্দা র-বিয়া-; অমিম্মা-ইয়ূক্বিদূনা ‘আলাইহি ফিন্না-রিব্ তিগ-য়া হিল্ইয়াতিন্ আও মাতা-‘ইন্ যাবাদুম্ মিছ্লুহূ কাযা-লিকা ইয়াদ্রিবুল্লা-হুল্ হাক্বক্ব অল্ বা-ত্বিল্; ফাআম্মায্ যাবাদু ফাইয়ায্হাবু জ্বুফা-য়ান্ অআম্মা-মা-ইয়ান্ফা‘উন্না-সা ফাইয়াম্কুছু ফিল্ র্আদ্ব্; কাযা-লিকা ইয়াদ্ব রিবুল্লা-হুল্ আম্ছা-ল্। বাংলা অনুবাদ ১৩.১৭ তিনি আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন, এতে উপত্যকাগুলো তাদের পরিমাণ অনুসারে প্লাবিত হয়, ফলে প্লাবন উপরস্থিত ফেনা বহন করে নিয়ে যায়। আর অলংকার ও তৈজসপত্র তৈরীর উদ্দেশ্যে তারা আগুনে যা কিছু উত্তপ্ত করে তাতেও অনুরূপ ফেনা হয়। এমনিভাবে আল্লাহ হক ও বাতিলের দৃষ্টান্ত দেন। অতঃপর ফেনাগুলো নিঃশেষ হয়ে যায়, আর যা মানুষের উপকার করে, তা যমীনে থেকে যায়। এমনিভাবেই আল্লাহ দৃষ্টান্তসমূহ পেশ করে থাকেন। لِلَّذِينَ اسْتَجَابُوا لِرَبِّهِمُ الْحُسْنَى وَالَّذِينَ لَمْ يَسْتَجِيبُوا لَهُ لَوْ أَنَّ لَهُمْ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا وَمِثْلَهُ مَعَهُ لَافْتَدَوْا بِهِ أُولَئِكَ لَهُمْ سُوءُ الْحِسَابِ وَمَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمِهَادُ13.18 আরবি উচ্চারণ ১৩. ১৮। লিল্লাযী নাস্ তাজ্বা-বূ লিরব্বী হিমুল্ হুস্না-; অল্লাযীনা লাম্ ইাস্তাজ্বীবূ লাহূ লাও আন্না লাহুম্ মা-ফিল্ র্আদ্বি জ্বামীআঁও অমিছ্লাহূ মা‘আহূ লাফ্তাদাঁও বিহ্; উলা-য়িকা লাহুম্ সূ-য়ুল্ হিসা-ব্; অমাওয়া-হুম্ জ্বাহান্নাম্; অবিসাল্ মিহা-দ্। বাংলা অনুবাদ ১৩.১৮ যারা তাদের রবের ডাকে সাড়া দেয়, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান। আর যারা তাঁর ডাকে সাড়া দেয়নি, যদি তারা যমীনে যা আছে তার সবকিছু ও এর সমপরিমাণের মালিক হয়ে যায়, তাহলে তারা তা মুক্তিপণস্বরূপ অবশ্যই দিয়ে দিত। তাদের জন্য রয়েছে মন্দ হিসাব এবং তাদের আবাস জাহান্নাম, আর তা নিকৃষ্টতম শয্যাস্থল। أَفَمَنْ يَعْلَمُ أَنَّمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ الْحَقُّ كَمَنْ هُوَ أَعْمَى إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُولُو الْأَلْبَابِ13.19 আরবি উচ্চারণ ১৩. ১৯। আফা মাইঁ ইয়া’লামু আন্নামা য় উন্যিলা ইলাইকা র্মি রব্বিকাল্ হাক্ব্কু কামান্ হুঅ আ’মা-; ইন্নামা-ইয়াতাযাক্কারু উলুল্ আল্বা-ব্। বাংলা অনুবাদ ১৩.১৯ যে ব্যক্তি জানে তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে, তা সত্য, সে কি তার মত, যে অন্ধ? বুদ্ধিমানরাই শুধু উপদেশ গ্রহণ করে। الَّذِينَ يُوفُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَلَا يَنْقُضُونَ الْمِيثَاقَ13.20 আরবি উচ্চারণ ১৩. ২০। আল্লাযীনা ইয়ূফূনা বিআ’হ্দিল্লা-হি অলা-ইয়ান্কদ্বনাল্ মীছা-ক্ব। বাংলা অনুবাদ ১৩.২০ যারা আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ করে এবং প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করে না। وَالَّذِينَ يَصِلُونَ مَا أَمَرَ اللَّهُ بِهِ أَنْ يُوصَلَ وَيَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ وَيَخَافُونَ سُوءَ الْحِسَابِ 13.21 আরবি উচ্চারণ ১৩. ২১। অল্লাযীনা ইয়াছিলূনা মা য় আমারাল্লা-হু বিহী য় আইঁ ইয়ূছলা অ ইয়াখ্ শাওনা রব্বাহুম্ অ ইয়াখা-ফূনা সু-য়াল্ হিসা-ব্। বাংলা অনুবাদ ১৩.২১ আর আল্লাহ যে সম্পর্ক অটুট রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, যারা তা অটুট রাখে এবং তাদের রবকে ভয় করে, আর মন্দ হিসাবের আশঙ্কা করে। وَالَّذِينَ صَبَرُوا ابْتِغَاءَ وَجْهِ رَبِّهِمْ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَأَنْفَقُوا مِمَّا رَزَقْنَاهُمْ سِرًّا وَعَلَانِيَةً وَيَدْرَءُونَ بِالْحَسَنَةِ السَّيِّئَةَ أُولَئِكَ لَهُمْ عُقْبَى الدَّارِ13.22 আরবি উচ্চারণ ১৩. ২২। অ ল্লাযীনা ছোয়াবারুব্ তিগা-য়া অজ্ব হি রব্বিহিম্ অ আক্ব-মুছ্ ছলা-তা অআন্ফাক্বু মিম্মা- রযাক্বনা-হুম্ র্সিরাঁও অ‘আলা-নিয়াতাঁও অইয়াদ্রয়ূনা বিল্ হাসানাতিস্ সাইয়িয়াতা উলা-য়িকা লাহুম্ ‘উক্ববাদ্দার্-। বাংলা অনুবাদ ১৩.২২ যারা তাদের রবের সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে সবর করে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদের যে রিয্ক প্রদান করেছি, তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে এবং ভাল কাজের মাধ্যমে মন্দকে দূর করে, তাদের জন্যই রয়েছে আখিরাতের শুভ পরিণাম। جَنَّاتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا وَمَنْ صَلَحَ مِنْ آبَائِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ وَالْمَلَائِكَةُ يَدْخُلُونَ عَلَيْهِمْ مِنْ كُلِّ بَابٍ13.23 আরবি উচ্চারণ ১৩. ২৩। জান্না-তু ‘আদ্নিই ইয়াদ্খুলূনাহা-অমান্ ছোয়ালাহা মিন্আ-বা-য়িহিম্ অ আয্ওয়া-জ্বিহিম্ অ র্যুরিয়্যা-তিহিম্ অল্ মালা-য়িকাতু ইয়াদ্খুলূনা ‘আলাইহিম্ মিন্ কুল্লি বা-ব্। বাংলা অনুবাদ ১৩.২৩ স্থায়ী জান্নাতসমূহ, যাতে তারা এবং তাদের পিতৃপুরুষগণ, তাদের স্ত্রীগণ ও তাদের সন্তানদের মধ্যে যারা সৎ ছিল তারা প্রবেশ করবে। আর ফেরেশতারা প্রতিটি দরজা দিয়ে তাদের নিকট প্রবেশ করবে। سَلَامٌ عَلَيْكُمْ بِمَا صَبَرْتُمْ فَنِعْمَ عُقْبَى الدَّارِ13.24 আরবি উচ্চারণ ১৩. ২৪। সালা-মুন্ ‘আলাইকুম্ বিমা-ছোয়ার্বাতুম্ ফানি’মা ‘উক্ববাদ্দার্-। বাংলা অনুবাদ ১৩.২৪ (আর বলবে) ‘শান্তি তোমাদের উপর, কারণ তোমরা সবর করেছ, আর আখিরাতের এ পরিণাম কতই না উত্তম’। وَالَّذِينَ يَنْقُضُونَ عَهْدَ اللَّهِ مِنْ بَعْدِ مِيثَاقِهِ وَيَقْطَعُونَ مَا أَمَرَ اللَّهُ بِهِ أَنْ يُوصَلَ وَيُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ وَيُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ أُولَئِكَ لَهُمُ اللَّعْنَةُ وَلَهُمْ سُوءُ الدَّارِ13.25 আরবি উচ্চারণ ১৩. ২৫। অল্লাযীনা ইয়ান্কুদ্বুনা ‘আহ্দাল্লা-হি মিম্ বা’দি মীছা-ক্বিহী অইয়াক্বত‘¡ঊনা মা য় আমারল্লা-হু বিহী য় আঁই ইয়ূছলা অ ইয়ুফ্সিদূনা ফিল্ র্আদ্বি উলা-য়িকা লাহুমুল্লা’নাতু অলাহুম্ সূ-য়ুদ্দার্-। বাংলা অনুবাদ ১৩.২৫ আর যারা আল্লাহর সাথে দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করে এবং আল্লাহ যে সম্পর্ক অটুট রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তা ছিন্ন করে এবং যমীনে ফাসাদ সৃষ্টি করে, তাদের জন্যই লা‘নত আর তাদের জন্যই রয়েছ আখিরাতের মন্দ আবাস। اللَّهُ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَقْدِرُ وَفَرِحُوا بِالْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا فِي الْآخِرَةِ إِلَّا مَتَاعٌ13.26 আরবি উচ্চারণ ১৩. ২৬। আল্লা-হু ইয়াবসুত্বর্ রিয্ক্ব লিমাইঁ ইয়াশা-য়ু অইয়াক্বর্ দি; অফারিহূ বিল্ হাইয়া-তিদ্ দুন্ইয়া-অমাল্ হাইয়া-তুদ্দুন্ইয়া-ফিল্ আ-খিরতি ইল্লা-মাতা’। বাংলা অনুবাদ ১৩.২৬ আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা করেন রিযক বাড়িয়ে দেন এবং সঙ্কুচিত করেন। আর তারা দুনিয়ার জীবন নিয়ে উৎফুল্লতায় আছে, অথচ আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবন খুবই নগণ্য। وَيَقُولُ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْلَا أُنْزِلَ عَلَيْهِ آيَةٌ مِنْ رَبِّهِ قُلْ إِنَّ اللَّهَ يُضِلُّ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي إِلَيْهِ مَنْ أَنَابَ13.27 আরবি উচ্চারণ ১৩. ২৭। অইয়াক্বুলুল্লাযীনা কাফারূ লাওলা য় উন্যিলা ‘আলাইহি আ-ইয়াতুম্ র্মি রব্বিহ্; ক্বুল্ ইন্নাল্লা-হা ইয়ুদিল্লু মাইঁ ইয়াশা-য়ু অইয়াহ্দী য় ইলাইহি মান্ আনা-ব্। বাংলা অনুবাদ ১৩.২৭ আর যারা কুফরী করেছে, তারা বলে, ‘তার নিকট তার রবের পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন কেন নাযিল হয় না’? বল, ‘নিশ্চয় আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যে তাঁর অভিমুখী হয়, তাকে তিনি তাঁর দিকে পথ দেখান’। الَّذِينَ آمَنُوا وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُمْ بِذِكْرِ اللَّهِ أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ 13.28 আরবি উচ্চারণ ১৩. ২৮। আল্লাযীনা আ-মানূ অতাত্বমায়িন্ন ক্বুলূবুহুম্ বিযিক্রিল্লা-হ্; আলা-বিযিক্রিল্লা-হি তাত্ব মায়িন্ন ল্ ক্বুলূব্। বাংলা অনুবাদ ১৩.২৮ ‘যারা ঈমান আনে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের অন্তর প্রশান্ত হয়; জেনে রাখ, আল্লাহর স্মরণ দ্বারাই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়’। الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ طُوبَى لَهُمْ وَحُسْنُ مَآبٍ13.29 আরবি উচ্চারণ ১৩.২৯। আল্লাযীনা আ-মানূ অ ‘আমিলুছ্ ছোয়া-লিহাতি ত্বু বা-লাহুম্ অহুসনু মাআ-ব্। বাংলা অনুবাদ ১৩.২৯ ‘যারা ঈমান আনে এবং নেক আমল করে, তাদের জন্য রয়েছে স্বাচ্ছন্দ ও সুন্দর প্রত্যাবর্তনস্থল’। كَذَلِكَ أَرْسَلْنَاكَ فِي أُمَّةٍ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهَا أُمَمٌ لِتَتْلُوَ عَلَيْهِمُ الَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَهُمْ يَكْفُرُونَ بِالرَّحْمَنِ قُلْ هُوَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ مَتَابِ13.30 আরবি উচ্চারণ ১৩. ৩০। কাযা-লিকা র্আসাল্না-কা ফী য় উম্মাতিন্ ক্বদ্ খলাত্ মিন্ ক্বব্লিহা য় উমামুল্ লিতাত্লুওয়া- ‘আলাইহিমুল্লাযী য় আওহাইনা য় ইলাইকা অহুম্ ইয়াক্ফুরূনা র্বিরহ্মা-ন্; ক্বুল্ হুঅ রব্বী লা য় ইলা-হা ইল্লা- হুঅ ‘আলাইহি তাওয়াক্কাল্তু অ ইলাইহি মাতা-ব্। বাংলা অনুবাদ ১৩.৩০ এমনিভাবে আমি তোমাকে পাঠিয়েছি এমন এক জাতির নিকট, যার পূর্বে অনেক জাতি গত হয়েছে, যেন আমি তোমার প্রতি যে ওহী প্রেরণ করেছি, তা তাদের নিকট তিলাওয়াত কর। অথচ তারা রহমানকে অস্বীকার করে। বল, ‘তিনি আমার রব, তিনি ছাড়া আর কোন (সত্য) ইলাহ নেই, তাঁরই উপর আমি তাওয়াক্কুল করেছি এবং তাঁরই দিকে আমার প্রত্যাবর্তন’। وَلَوْ أَنَّ قُرْآنًا سُيِّرَتْ بِهِ الْجِبَالُ أَوْ قُطِّعَتْ بِهِ الْأَرْضُ أَوْ كُلِّمَ بِهِ الْمَوْتَى بَلْ لِلَّهِ الْأَمْرُ جَمِيعًا أَفَلَمْ يَيْأَسِ الَّذِينَ آمَنُوا أَنْ لَوْ يَشَاءُ اللَّهُ لَهَدَى النَّاسَ جَمِيعًا وَلَا يَزَالُ الَّذِينَ كَفَرُوا تُصِيبُهُمْ بِمَا صَنَعُوا قَارِعَةٌ أَوْ تَحُلُّ قَرِيبًا مِنْ دَارِهِمْ حَتَّى يَأْتِيَ وَعْدُ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ لَا يُخْلِفُ الْمِيعَادَ13.31 আরবি উচ্চারণ ১৩. ৩১। অলাও আন্না ক্বর্আ-নান্ সুইয়্যিরাত্ বিহিল্ জ্বিবালু আও ক্বুত্ত্বিআ’ত্ বিহিল্ র্আদ্বু আও কুল্লিমা বিহিল্ মাওতা-; বাল্ লিল্লা-হিল্ আম্রু জ্বামী‘আ- আফালাম্ ইয়াইয়াসিল্লাযীনা আ-মানূ য় আল্লাও ইয়াশা-য়ুল্লা-হু লাহাদান না-সা জ্বামীআ’-; অলা-ইয়াযা-লুল্লাযীনা কাফারূ তুছীবুহুম্ বিমা-ছোয়ানা‘ঊক্ব-রি‘আতুন্ আও তাহুল্ল ক্বরীবাম্ মিন্ দা-রিহিম্ হাত্তা-ইয়াতিয়া ওয়া’দুল্লা-হ্; ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়ুখ্লিফুল্ মী‘আ-দ্। বাংলা অনুবাদ ১৩.৩১ আর যদি এমন কোন কুরআন হত, যার দ্বারা পাহাড়সমূহকে চলমান করা যেত অথবা যমীনকে টুকরো-টুকরো করা যেত অথবা তার দ্বারা মৃতকে কথা বলানো যেত (তবে সেটা এই কুরআনই হত, আর তারা ঈমান আনত না।) বরং সব সিদ্ধান্ত আল্লাহরই। যারা ঈমান এনেছে, তারা কি (ওদের ঈমানের ব্যাপারে) নিরাশ হয়নি এবং তারা জানে যে, আল্লাহ ইচ্ছা করলে সমগ্র মানুষকে হিদায়াত দান করতেন? আর যারা কুফরী করে, তাদের কর্মের দরুন সর্বদা তাদের বিপদ ঘটতে থাকবে অথবা তাদের আবাসের আশপাশে বিপদ আপতিত হতে থাকবে, অবশেষে আসবে আল্লাহর ওয়াদা। নিশ্চয় আল্লাহ প্রতিশ্র“তির ব্যতিক্রম করেন না। وَلَقَدِ اسْتُهْزِئَ بِرُسُلٍ مِنْ قَبْلِكَ فَأَمْلَيْتُ لِلَّذِينَ كَفَرُوا ثُمَّ أَخَذْتُهُمْ فَكَيْفَ كَانَ عِقَابِ13.32 আরবি উচ্চারণ ১৩. ৩২। অ লাক্বদিস্ তুহ্যিয়া বিরুসুলিম্ মিন্ ক্বব্লিকা ফাআম্লাইতু লিল্লাযীনা কাফারূ ছুম্মা আখায্তুহুম্ ফাকাইফা কা-না ই’ক্ব -ব্। বাংলা অনুবাদ ১৩.৩২ আর অবশ্যই তোমার পূর্বে রাসূলদের নিয়ে উপহাস করা হয়েছে। অতঃপর যারা কুফরী করেছে, আমি তাদেরকে অবকাশ দিয়েছি, তারপর আমি তাদেরকে পাকড়াও করেছি। অতএব, কেমন ছিল আমার আযাব! أَفَمَنْ هُوَ قَائِمٌ عَلَى كُلِّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ وَجَعَلُوا لِلَّهِ شُرَكَاءَ قُلْ سَمُّوهُمْ أَمْ تُنَبِّئُونَهُ بِمَا لَا يَعْلَمُ فِي الْأَرْضِ أَمْ بِظَاهِرٍ مِنَ الْقَوْلِ بَلْ زُيِّنَ لِلَّذِينَ كَفَرُوا مَكْرُهُمْ وَصُدُّوا عَنِ السَّبِيلِ وَمَنْ يُضْلِلِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ هَادٍ13.33 আরবি উচ্চারণ ১৩. ৩৩। আফামান্ হুঅ ক্ব-য়িমুন্ ‘আলা-কুল্লি নাফ্সিম্ বিমা-ক্বসাবাত্ অজ্বা‘আলূ লিল্লা-হি শুরাকা-য়া ক্বুল্ সাম্ম হুম্; আম্ তুনাব্বিয়ূনাহূ বিমা-লা-ইয়া’লামু ফিল্ র্আদ্বি আম্ বিজোয়া-হিরিম্ মিনাল্ ক্বওল্; বাল্ যুইয়্যিনা লিল্লাযীনা কাফারূ মাক্রুহুম্ অছুদ্দূ ‘আনিস্ সাবীল্; অমাইঁ ইয়ুদ্লিলিল্লা-হু ফামা-লাহূ মিন্ হা-দ্। বাংলা অনুবাদ ১৩.৩৩ তবে কি প্রতিটি নাফ্স যা উপার্জন করে যিনি তার দায়িত্বশীল (তিনিই ইবাদাতের অধিক উপযুক্ত, নাকি এই শরীকগুলো?) এতদসত্ত্বেও তারা আল্লাহর সাথে অনেক শরীক সাব্যস্ত করেছে। বল, ‘তোমরা এদের পরিচয় দাও’। নাকি তোমরা তাকে যমীনের এমন কিছু জানাবে যে ব্যাপারে তিনি জানেন না? নাকি তোমরা ভাসাভাসা কথা বলছ? বরং যারা কুফরী করেছে তাদের নিকট তাদের ষড়যন্ত্রকে শোভিত করা হয়েছে এবং তারা সরল পথ হতে বাধা প্রদান করেছে। আর আল্লাহ যাকে পথহারা করেন, তার কোন হিদায়াতকারী নেই। لَهُمْ عَذَابٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَلَعَذَابُ الْآخِرَةِ أَشَقُّ وَمَا لَهُمْ مِنَ اللَّهِ مِنْ وَاقٍ13.34 আরবি উচ্চারণ ১৩. ৩৪। লাহুম্ ‘আযা-বুন্ ফিল্ হাইয়া-তিদ্ দুনইয়া-অলা ‘আযা-বুল্ আ-খিরতি আশাক্বক্বু অমা-লাহুম্ মিনাল্লা-হি মিঁও ওয়া-ক্ব। বাংলা অনুবাদ ১৩.৩৪ তাদের জন্যই রয়েছে দুনিয়ার জীবনে আযাব, আর আখিরাতের আযাব তো আরো কঠিন। আল্লাহর আযাব থেকে তাদের কোন রক্ষাকারী নেই। مَثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ أُكُلُهَا دَائِمٌ وَظِلُّهَا تِلْكَ عُقْبَى الَّذِينَ اتَّقَوْا وَعُقْبَى الْكَافِرِينَ النَّارُ13.35 আরবি উচ্চারণ ১৩. ৩৫। মাছালুল্ জান্নাতি ল্লাতী উ‘ইদাল্ মুত্তাক্বুন্; তাজ্ব রী মিন্ তাহ্তিহাল্ আনহার্-; উকুলুহা-দা-য়িমুওঁ অজিল্লুহা-; তিল্কা ‘উক্ববাল্ লাযীনাত্তাক্বও অ‘উক্ববাল্ কা-ফিরীনান্ নার্-। বাংলা অনুবাদ ১৩.৩৫ মুত্তাকীদের যে জান্নাতের প্রতিশ্র“তি দেয়া হয়েছে, সেটির দৃষ্টান্ত এরূপ, তার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত। তার খাদ্যসামগ্রী ও তার ছায়া সার্বক্ষণিক। যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে, এটি তাদের শুভ পরিণাম আর কাফিরদের পরিণাম আগুন। وَالَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَفْرَحُونَ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَمِنَ الْأَحْزَابِ مَنْ يُنْكِرُ بَعْضَهُ قُلْ إِنَّمَا أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ اللَّهَ وَلَا أُشْرِكَ بِهِ إِلَيْهِ أَدْعُو وَإِلَيْهِ مَآبِ 13.36 আরবি উচ্চারণ ১৩.৩৬। অল্লাযীনা আ-তাইনা-হুমুল্ কিতা-বা ইয়াফ্রাহূনা বিমা য় উন্যিলা ইলাইকা অ মিনাল্ আহ্যা-বি মাইঁ ইয়ুন্কিরু বা’দ্বোয়াহ্; ক্বুল্ ইন্নামা য় উর্মিতু আন্ আ’বুদাল্লা-হা অলা য় উশ্রিকা বিহী ইলাইহি আদ্‘ঊঅইলাইহি মাআ-ব্। বাংলা অনুবাদ ১৩.৩৬ আর আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছি, তোমার উপর যা নাযিল হয়, তাতে তারা উৎফুল্ল হয়। আর দলগুলোর মধ্যে কেউ কেউ এর কিছু অংশকে অস্বীকার করে। বল, ‘আমাকে কেবল আদেশ দেয়া হয়েছে, যেন আমি আল্লাহর ইবাদাত করি এবং তাঁর সাথে শরীক না করি। আমি তাঁরই দিকে দাওয়াত দেই এবং তাঁরই নিকট আমার প্রত্যাবর্তনস্থল’। وَكَذَلِكَ أَنْزَلْنَاهُ حُكْمًا عَرَبِيًّا وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءَهُمْ بَعْدَمَا جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ مَا لَكَ مِنَ اللَّهِ مِنْ وَلِيٍّ وَلَا وَاقٍ13.37 আরবি উচ্চারণ ১৩. ৩৭। অ কাযা-লিকা আন্যাল্না-হু হুক্মান্ ‘আরাবিয়্যা-; অ লায়িনিত্তাবা’তা আহ্ওয়া য় হুম্ বা’দা মা-জ্বা-কা মিনাল্ ‘ইল্মি মা-লাকা মিনাল্লা-হি মিঁও অলিয়্যিঁও অলা-ওয়া-ক্ব। বাংলা অনুবাদ ১৩.৩৭ আর এভাবেই আমি কুরআনকে বিধানস্বরূপ আরবীতে নাযিল করেছি। তোমার নিকট জ্ঞান পৌঁছার পরও যদি তুমি তাদের খেয়াল খুশির অনুসরণ কর, তবে আল্লাহ ছাড়া তোমার কোন অভিভাবক ও রক্ষাকারী নেই। وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِنْ قَبْلِكَ وَجَعَلْنَا لَهُمْ أَزْوَاجًا وَذُرِّيَّةً وَمَا كَانَ لِرَسُولٍ أَنْ يَأْتِيَ بِآيَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ لِكُلِّ أَجَلٍ كِتَابٌ13.38 আরবি উচ্চারণ ১৩.৩৮। অ লাক্বদ্ র্আসালনা- রুসুলাম্ মিন্ ক্বব্লিকা অজ্বা‘আল্না-লাহুম্ আয্ওয়া-জ্বাঁও অর্যুরিয়্যাহ্;অমা-কা-না লি রসূলিন্ আইঁ ইয়াতিয়া বিআ-ইয়াতিন্ ইল্লা-বিইয্নিল্লা-হ্; লিকুল্লি আজ্বালিন্ কিতা-ব্। বাংলা অনুবাদ ১৩.৩৮ আর অবশ্যই তোমার পূর্বে আমি রাসূলদের প্রেরণ করেছি এবং তাদেরকে দিয়েছি স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি। আর কোন রাসূলের জন্য এটা সম্ভব নয় যে, আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোন নিদর্শন নিয়ে আসবে। প্রতিটি সুনির্দিষ্ট সময়ের জন্য রয়েছে লিপিবদ্ধ বিধান। يَمْحُوا اللَّهُ مَا يَشَاءُ وَيُثْبِتُ وَعِنْدَهُ أُمُّ الْكِتَابِ13.39 আরবি উচ্চারণ ১৩. ৩৯। ইয়াম্হুল্লা-হু মা-ইয়াশা-য়ু অ ইয়ুছ্বিতু অ ‘ইন্দাহূ য় উম্মুল কিতা-ব্। বাংলা অনুবাদ ১৩.৩৯ আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন মিটিয়ে দেন এবং যা ইচ্ছা করেন স্থির রাখেন, আর তাঁর কাছেই রয়েছে মূল কিতাব। وَإِنْ مَا نُرِيَنَّكَ بَعْضَ الَّذِي نَعِدُهُمْ أَوْ نَتَوَفَّيَنَّكَ فَإِنَّمَا عَلَيْكَ الْبَلَاغُ وَعَلَيْنَا الْحِسَابُ 13.40 আরবি উচ্চারণ ১৩. ৪০। অ ইঁম্মা-নুরিইয়ান্নাকা বা’দ্বোয়াল্লাযী না‘ইদুহুম্ আও নাতাওয়াফ্ফাইয়ান্নাকা ফাইন্নামা-‘আলাইকাল্ বালা-গু অ‘আলাইনাল্ হিসা-ব্। বাংলা অনুবাদ ১৩.৪০ আর যে প্রতিশ্রুতি আমি তাদেরকে দিচ্ছি, যদি তার কিছু তোমাকে দেখাই অথবা তোমার মৃত্যু ঘটাই (তাতে কিছুই আসে যায় না)। তবে তোমার কর্তব্য কেবল পৌঁছে দেয়া, আর আমার দায়িত্ব হিসাব নেয়া। أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّا نَأْتِي الْأَرْضَ نَنْقُصُهَا مِنْ أَطْرَافِهَا وَاللَّهُ يَحْكُمُ لَا مُعَقِّبَ لِحُكْمِهِ وَهُوَ سَرِيعُ الْحِسَابِ13.41 আরবি উচ্চারণ ১৩. ৪১। আঅলাম্ ইয়ারাও আন্না- নাতিল্ র্আদ্বোয়া নান্ক্ব ুছুহা-মিন্ আত্ব ্র-ফিহা-; অল্লা-হু ইয়াহ্কুমু লা-মু‘আক্বক্বিবা লিহুক্মিহ্; অ হুঅ সারীউল্ হিসা-ব্। বাংলা অনুবাদ ১৩.৪১ তারা কি দেখে না, আমি যমীনকে চতুর্দিক থেকে সংকীর্ণ করে আনছি। আর আল্লাহই হুকুম করেন এবং তাঁর হুকুম প্রত্যাখ্যান করার কেউ নেই এবং তিনিই দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। وَقَدْ مَكَرَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَلِلَّهِ الْمَكْرُ جَمِيعًا يَعْلَمُ مَا تَكْسِبُ كُلُّ نَفْسٍ وَسَيَعْلَمُ الْكُفَّارُ لِمَنْ عُقْبَى الدَّارِ13.42 আরবি উচ্চারণ ১৩. ৪২। অ ক্বদ্ মাকারল্লাযীনা মিন্ ক্বব্লিহিম্ ফালিল্লা-হিল্ মাক্রু জ্বামী‘আ ইয়া’লামু মা- তাক্সিবু কুল্লু নাফ্স্; অ সাইয়া’লামুল্ কুফ্ফা-রু লিমান্ ‘উক্ববা দ্দার্-। বাংলা অনুবাদ ১৩.৪২ আর তাদের পূর্ববর্তীরাও ষড়যন্ত্র করেছিল, অথচ সকল ষড়যন্ত্র আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে। প্রতিটি ব্যক্তি যা অর্জন করে, তিনি তা জানেন। আর কাফিররা অচিরেই জানবে আখিরাতের শুভপরিণতি কাদের জন্য। وَيَقُولُ الَّذِينَ كَفَرُوا لَسْتَ مُرْسَلًا قُلْ كَفَى بِاللَّهِ شَهِيدًا بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ وَمَنْ عِنْدَهُ عِلْمُ الْكِتَابِ 13.43 আরবি উচ্চারণ ১৩. ৪৩। অইয়াক্বুলু ল্লাযীনা কাফারূ লাস্তা র্মুসালা ক্বুল্ কাফা-বিল্লা-হি শাহীদাম্ বাইনী-অবাইনাকুম্ অমান্ ‘ইন্দাহূ ‘ইল্মুল্ কিতা-ব্। বাংলা অনুবাদ ১৩.৪৩ আর যারা কুফরী করে, তারা বলে, ‘তুমি রাসূল নও’। বল, ‘আল্লাহ আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট এবং যার নিকট কিতাবের জ্ঞান আছে সেও।

About Abdul Latif Sheikh

Check Also

idf image

সুরা আল ইমরান আয়াত ১০২-১০৫ এর তাফসির

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰهَ حَقَّ تُقٰتِهٖ وَ لَا تَمُوۡتُنَّ اِلَّا وَ اَنۡتُمۡ مُّسۡلِمُوۡنَ  وَ …

সুরা ইখলাস এর ফযিলত

সুরা আন আনফাল

সুরা আন আনফাল নামের অর্থঃ যুদ্ধ লব্ধ সম্পদ শ্রেনীঃ মাদানী সুরা ক্রমঃ ৮ আয়াত সংখ্যাঃ …

সুরা ইখলাস এর ফযিলত

সূরা আত-তাওবাহ্‌

সূরা আত-তাওবাহ্‌ শ্রেণীঃ মাদানীনামের অর্থঃ অনুশোচনাঅন্য নামঃ আল-বারাহ্ (শাস্তি থেকে অব্যাহতি) সূরার ক্রমঃ ৯আয়াতের সংখ্যাঃ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *