Monday , February 26 2024

ইনফাক ফী সাবিলিল্লাহ

সুরা তওবা আয়াত -১১১

اِنَّ اللّٰهَ اشۡتَرٰی مِنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ اَنۡفُسَهُمۡ وَ اَمۡوَالَهُمۡ بِاَنَّ لَهُمُ الۡجَنَّۃَ

নিঃসন্দেহে আল্লাহ বিশ্বাসীদের নিকট থেকে তাদের প্রাণ ও তাদের ধন-সম্পদসমূহকে বেহেশ্তের বিনিময়ে ক্রয় করে নিয়েছেন

ইনফাক ফী সাবিলিল্লাহ শব্দটির অর্থ: আল্লাহর পথে খরচ । এখন প্রশ্ন হচ্ছে আল্লাহর পথে খরচ বলতে কি বুঝানো হচ্ছে? এক কথায় আল্লাহ খুশী হন এমন কাজে অর্থ ব্যয় করাই হচ্ছে ইনফাক ফী সাবিলিল্লাহ বা আল্লাহর পথে খরচ। আল্লাহকে খুশী করার জন্য, নিজের প্রয়োজনে, পরিবার পরিজন, আত্মীয় স্বজন, সমাজ ও মানবতার কল্যাণ এবং সর্বপরি আল্লাহর দ্বীন এর প্রচার, প্রসার ও প্রতিষ্ঠার কাজে যে অর্থ ব্যয় হয় সবই ইনফাক ফী সাবিলিল্লাহর অন্তর্ভুক্ত। এক্ষেত্রে শর্ত হচ্ছে খরচ হতে হবে শুধুমাত্র আল্লাহকে খুশী করার জন্য। খ্যাতিলাভ, প্রদর্শনেচ্ছা কিংবা জাগতিক কোন স্বার্থে দ্বীন প্রতিষ্ঠার কোন কাজে অর্থ খরচ হলেও তা ইনফাক ফী সাবিল্লিাহ হিসেবে আল্লাহর কাছে গৃহীত হবেনা। অপরদিকে আল্লাহকে খুশী করার জন্য নিজের বা পরিবার পরিজনের জন্য খরচ করা হলেও ইনফাক এর সওয়াব আল্লাহ দান করবেন।

ইনফাক ফী সাবিলিল্লাহ শব্দটির সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা: ইনফাক শব্দটির মূল ধাতু নাফাক (نفق)  যার অর্থ সুড়ঙ্গ। সাধারণত সুড়ঙ্গের এক দিক দিয়ে প্রবেশ করে আরেক দিক দিয়ে বের হওয়া যায়। আর এই নাফাক শব্দটির সাথে মাল শব্দটি যোগ হলে এর অর্থ হয় সম্পদ খরচ করা, শেষ করা। এর মানে হচ্ছে সম্পদ কারো হাতে কুক্ষিগত থাকার বস্তু নয়। সম্পদ এক দিক দিয়ে আসবে আবার আরেক দিক দিয়ে খরচ হবে। তবে কুরআনে যে ইনফাক এর কথা বলা হয়েছে এই ইনফাক এর সাথে আয় ও ব্যয়ে বৈধতার প্রশ্ন রয়েছে। অবৈধ উপায়ে আয় করে অবৈধ খাতে খরচ করলে কুরআনে বর্ণিত ইনফাক হবেনা। ইনফাক হতে হলে সম্পদ বৈধভাবে আয় করতে হবে এবং আল্লাহকে খুশী করার জন্য বৈধ খাতেই ব্যয় করতে হবে। এখানে বলা হয়েছে ইনফাক ফী সাবিলিল্লাহ, একটু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে কুরআনে আরো বলা হয়েছে জিহাদ ফি সাবিল্লিল্লাহ ও কিতাল ফি সাবিল্লিল্লাহ, তাই ইনফাক ফী সাবিলিল্লাহ দ্বারা আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করাকে বুঝানো হয়েছে।

সুতরাং এই দান করতে হবে সচ্ছল অসচ্ছল সর্বাবস্থায়: আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন: সুরা আল ইমরান আয়াত-১৩৪

الَّذِیۡنَ یُنۡفِقُوۡنَ فِی السَّرَّآءِ وَ الضَّرَّآءِ

যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় দান করে

ইনফাক ফি সাবিল্লিল্লাহর ক্ষেত্রে রাসুল সঃ এর ভূমিকা

রসুল সঃ এর নবুয়াতের ঘোষনা আসার পূর্ব পর্যন্ত আরবের একজন অন্যতম ধনী ব্যাক্তি হওয়ার সুযোগ হয়েছিল। তার স্ত্রী খাদিজাতুল কোবরা রাঃ এর ব্যবসায় অংশগ্রহন করে ধনি হওয়ার সুযোগ হয়েছে। কিন্তু ইতিহাস স্বাক্ষী এরপর রসুল সঃ এর সম্পত্তি আর বৃদ্ধি পায়নি। তিলে তিলে সব সম্পত্তি শেষ হয়ে গেছে ।

 ইনফাক ফি সাবিল্লিল্লাহর ক্ষেত্রে সাহাবিদের ভূমিকা

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু তালহা মদিনায় আনসারদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধনী ছিলেন।  সম্পদের মধ্যে বায়রুহা বাগানটি তাঁর খুবই প্রিয় ছিল।  এটা মসজিদের (নববির) সামনে অবস্থিত। রাসুল (সা.) তাতে যেতেন এবং এর উৎকৃষ্ট পানি পান করতেন।

অতঃপর আয়াত  নাজিল হলো,

 لَنۡ تَنَالُوا الۡبِرَّ حَتّٰی تُنۡفِقُوۡا مِمَّا تُحِبُّوۡنَ ۬ؕ وَ مَا تُنۡفِقُوۡا مِنۡ شَیۡءٍ فَاِنَّ اللّٰهَ بِهٖ عَلِیۡمٌ

 তোমরা যা ভালবাস তা থেকে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো সওয়াব অর্জন করবে না। আর তোমরা যা কিছু ব্যয় কর, নিশ্চয় আল্লাহ সে সম্পর্কে সবিশেষ অবগত (আলে ইমরান-৯২)।

তখন আবু তালহা (রা.) রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, আল্লাহ তাঁর কিতাবে বলেছেন, ‘তোমরা যা ভালাবাস, তা হতে যে পর্যন্ত দান না করবে, সে পর্যন্ত তোমরা প্রকৃত পুণ্য লাভ করবে না’।  আমার সম্পদের মধ্যে বায়রুহা-বাগান আমার সবচেয়ে প্রিয়। আমি তা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান করে দিলাম। এর সওয়াব ও প্রতিদান আমি আল্লাহর কাছে প্রত্যাশা করছি। তাই আপনি তা যেখানে ভাল মনে করেন, খরচ করেন।

নবী (সা.) বললেন, ‘বেশ, এটি অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা, এটি অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা। সম্পদের বিষয়ে তোমার কথা আমি শুনেছি এবং আমার কাছে সঙ্গত মনে হচ্ছে, এটা তুমি তোমার আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে বণ্টন করে দেবে। আবু তালহা (রা.) বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, আমি এমনই করব। অতঃপর আবু তালহা (রা.) নিজের নিকটাত্মীয় ও চাচাত ভাইদের মধ্যে তা বণ্টন করে দেন। (বুখারি, হাদিস নং ২৩১৮)

অত্যাধিক দান করতেন জয়নব (রা.) : আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.)-এর এক স্ত্রী রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেন, আমাদের মধ্যে সবার আগে (মৃত্যুর পর) আপনার সঙ্গে কে মিলিত হবে? তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে যার হাত সবচেয়ে বেশি লম্বা। তাঁরা একটি বাঁশের কাঠির দিয়ে হাত মেপে দেখা শুরু করে। সওদার হাত সবার হাতের চেয়ে লম্বা বলে প্রমাণিত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, সবার আগে জয়নব (রা.) মারা যান। তখন আমরা বুঝতে পারলাম যে, দীর্ঘ হাত হওয়ার অর্থ দানশীলতা।  আমাদের মধ্যে জয়নব (রা.) সবার আগে রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে মিলিত হন।  তিনি অত্যাধিক দান করতে ভালবাসতেন। (বুখারি , হাদিস নং ১৪২০)

About ISLAMIC DAWAH FOUNDATION

Check Also

হযরত আদম (আঃ) এর সৃষ্টির বর্ননা

প্রথম মানুষ হযরত আদম (আঃ) এর সৃষ্টির বর্ননা সুরা বাকারার ৩০-৩৯ নং আয়াতের ঘটনা সুরা …

সুরা ফাতিহা আয়াত ২ এর তাফসীর

সুরা ফাতিহা আয়াত ২ ১:২ اَلۡحَمۡدُ لِلّٰهِ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ (২) সমস্ত প্রশংসা সারা জাহানের প্রতিপালক আল্লাহর …

বিসমিল্লাহ এর নাম ও ইতিহাস জানুন

১:১ بِسۡمِ اللّٰهِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ১. রহমান, রহীম আল্লাহর নামে। ১. সাধারণত আয়াতের অনুবাদে বলা হয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.