Tuesday , June 18 2024

আসমানি কিতাবের সংখ্যা সম্পর্কে সঠিক তথ্য

আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাবের উপর ঈমান আনা সম্পর্কে বলা হয়েছে, সুরা বাকারার ২৮৫ নং আয়াতে

کُلٌّ اٰمَنَ بِاللّٰهِ وَ مَلٰٓئِکَتِهٖ وَ کُتُبِهٖ

প্রত্যেকেই ঈমান এনেছে আল্লাহর উপর, তার ফেরেশতাগণ ও তার কিতাবসমূহ এর উপর

আমরা জানি প্রসিদ্ধ কিতাব ০৪ খানা,

১. তাওরাত- নাযিল হয়েছে হযরত মুসা (আ) এর নিকট ।
২. যাবুর- নাযিল হয়েছে হযরত দাউদ (আ) এর নিকট ।
৩. ইনজিল- নাযিল হয়েছে হযরত ঈসা (আ) এর নিকট ।
৪. পবিত্র কুরআন- নাযিল হয়েছে হযরত মুহাম্মাদ (সা) এর নিকট ।

এছাড়াও আরো অসংখ্য কিতাব আল্লাহ যুগে যুগে তার নবীদের উপর নাযিল করেছেন, বিভিন্ন গোত্রকে হেদায়েতের পথ দেখানর জন্য।

সুরা আল ইমরান আয়াত -০৩ আল্লাহ বলেছেন

نَزَّلَ عَلَیۡکَ الۡکِتٰبَ بِالۡحَقِّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَیۡنَ یَدَیۡهِ وَ اَنۡزَلَ التَّوۡرٰىۃَ وَ الۡاِنۡجِیۡلَ

তিনি সত্যসহ আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন, পূর্বে যা এসেছে(১) তার সত্যতা প্রতিপন্নকারীরূপে। আর তিনি নাযিল করেছিলেন তাওরাত ও ইঞ্জীল

এবং আল্লাহ তায়ালা সুরা বনি ইসরাইলের ৫৫ নং আয়াতে বলেছেন

وَّ اٰتَیۡنَا دَاوٗدَ زَبُوۡرًا

এবং দাউদকে দিয়েছি যাবূর।

আসমানি কিতাব সমূহের প্রতি বিশ্বাস এবং সেগুলোর সংখ্যা নিয়ে আমাদের সমাজে বিভ্রান্তি রয়েছে

আল্লাহ তাআলা মানবজাতির পথ প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে যুগে যুগে নবী-রাসূলদের মাধ্যমে অনেক আসমানি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। প্রত্যেক মুসলিমের জন্য সামগ্রিকভাবে এ সকল আসমানি কিতাবের উপর বিশ্বাস স্থাপন করা অপরিহার্য- চাই সেগুলোর নাম ও সংখ্যা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যাক অথবা না যাক।

এ বিশ্বাস ঈমানের ছয় টি স্তম্ভ (আরকানুল ঈমান) এর অন্যতম। এ ছাড়া কোনক্রমেই ঈমানের দাবী পূর্ণাঙ্গতা পাবে না।

কুরআন ও সহিহ সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত যে, মৌলিক আসমানি কিতাবের সংখ্যা চারটি। এগুলোর উপর বিশ্বাস স্থাপন করা ঈমানের রোকন (স্তম্ভ)। এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই।

এ ছাড়াও ইবরাহীম ও মুসা আলাইহিমাস সালাম এর অবতীর্ণ সহিফা (ছোট ছোট পুস্তিকা) সমূহের প্রতিও বিশ্বাস স্থাপন করা আবশ্যক। এগুলোর সংখ্যা কুরআন-হাদিসে বর্ণিত হয় নি।
আল্লাহ তাআলা বলেন:

صُحُفِ اِبۡرٰهِیۡمَ وَ مُوۡسٰی – اِنَّ هٰذَا لَفِی الصُّحُفِ الۡاُوۡلٰی


“এটা লিখিত রয়েছে পূর্ববর্তী সহিফা (পুস্তিকা); ইব্রাহীম ও মুসার সহীফা (পুস্তিকা) সমূহে।”

(সূরা আ’লা: ১৮ ও ১৯)

‘আসমানি গ্রন্থ ১০৪ খানা’ এ মর্মে একটি কথা আমাদের সমাজে ব্যাপকভাবে প্রচলিত রয়েছে। আমাদের দেশে ইসলাম শিক্ষার বইয়েও এ তথ্য লেখা আছে। কিন্তু মুলত: এ তথ্যটি একটি বানোয়াট (কারো কারো মতে অত্যন্ত দুর্বল) হাদিসের উপর প্রতিষ্ঠিত।

এ মর্মে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে ইবনে হিব্বান, ইবনে মারদাওয়াইহ, আবদ বিন হুমাইদ এবং ইবনে আসাকির, তাফসীরে কুরতুবী এবং সুয়ূতীর দুররে মানসূর ইত্যাদি বিভিন্ন কিতাবে। কিন্তু গবেষক হাদিস বিশারদগণের মতে
এটি বাতিল/বানোয়াট।
হাদিসটি হল:
عن أبي ذر الغفاري رضي الله عنه أنه سأل النبي صلى الله عليه وسلم كم كتاباً أنزل الله؟ قال: مائة كتاب، وأربعة كتب، أنزل على شيث خمسون صحيفة، وأنزل على أخنوخ (إدريس) ثلاثون صحيفة، وأنزل على إبراهيم عشر صحائف، وأنزل على موسى قبل التوراة عشر صحائف، وأنزل التوراة والإنجيل والزبور والفرقان

আবু যর রা. হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন: আল্লাহ তাআলা কতটি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন? তিনি বললেন: ১০৪টি। সীস আ. এর উপর অবতীর্ণ করেছেন ৫০টি সহীফা। উখনূখ (ইদরীস আ.) এর উপর ৩০টি সহীফা। ইবরাহীম আ. এর উপর ১০টি সহীফা। আর তাওরাত নাজিলের পূর্বে মূসা আ. এর উপর ১০টি সহীফা। আরও অবতীর্ণ করেছেন তাওরাত, ইনজিল, যাবুর এবং ফুরকান (কুরআন)।
(লম্বা হাদিসের অংশ) এ হাদিসটি বাতিল/বানোয়াট।

হায়সামী তার মাওয়ারিদুয যামআন موارد الظمآن গ্রন্থে বলেন:
এ হাদিসের সনদে ইবরাহীম বিন হাশিম বিন ইয়াহিয়া আল গাসসানী নামক একজন বর্ণনাকারী রয়েছে। তার ব্যাপারে আবু হাতিম প্রমুখ বলেন: كذاب (মিথ্যুক)।

মহান আল্লাহ আমাদেরকে মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নাজিলকৃত কিতাবের উপর যথাযথ বিশ্বাস স্থাপন করে সে আলোকে আমাদের জীবন পরিচালনা করার তওফিক দান করুন। আমীন। আমরা অনেকে বলে থাকি আসমানী কিতাব মোট ১০৪ খানা, এই কথাটির কুরআন ও সহী হাদিসে ভিত্তি নেই। আল্লাহ ও তার রাসুল স্পষ্ট করে আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাবের সংখ্যা উল্লেখ করেনি। তাই আমরা জানবো আসমানী কিতাব অগণিত। আসমানি কিতাব আল্লাহ পৃথীবিতে পাঠিয়েছেন তার প্রতি ইমান আনবো কিন্তু তার সংখ্যা নিয়ে কোন বাড়াবাড়ি করবোনা।

About Md Nazmul Azam

I am website developer.

Check Also

nazmul azam shamim

তাকবীরের সময় হাত কতটুকু উত্তোলন করবেন

১। সহীহ মুসলিম হাদিস নং-৩৯১ عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه …

nazmul azam shamim

নামাযের কাতার সোজা করা ও ফাকা বন্ধ করা

১। আবু দাউদ হাদিস নং-৬৬৭ (হাদিসের মান সহীহ) عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ …

nazmul azam shamim

মসজিদে প্রবেশের দোয়া ও মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাকাত নামায না পড়ে বসা যাবেনা

মসজিদে প্রবেশের দোয়া ১। নাসায়ি শরীফ হাদিস নং ৭৩০ (হাদিসের মান সহীহ) قَالَ رَسُولُ اللَّهِ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *