Wednesday , April 24 2024

আল ফাজ্‌র

আল ফাজ্‌র

শ্রেণীঃ মক্কী সূরা
নামের অর্থঃ ভোর, প্রভাত [অবতীর্ণ হওয়ার সময় মাক্কী যুগের এমন এক সময় যখন মুসলিমগণ চরমভাবে নির্যাতিত হচ্ছিলেন]

সূরার ক্রমঃ ৮৯
আয়াতের সংখ্যাঃ ৩০
পারার ক্রমঃ ৩০
রুকুর সংখ্যাঃ ১
সিজদাহ্‌র সংখ্যাঃ নেই
শব্দের সংখ্যাঃ ১৩৯
অক্ষরের সংখ্যাঃ ৫৭৩

← পূর্ববর্তী সূরা সূরা আল-গাশিয়াহ্‌
পরবর্তী সূরা → সূরা আল-বালাদ

নামকরণ
সূরাটির প্রথম শব্দ ‘আল ফাজ্‌র’ এর নাম হিসেবে নেয়া হয়েছে।

মূল বক্তব্য
মৃত্যু-পরবর্তী জীবনের পুরস্কার ও শাস্তির বিষয়টি এই সূরায় প্রমাণ করা হয়েছে। মক্কার অবিশ্বাসীগণ পরকালকে অস্বীকার করত; তাই সেই সময় নাজিল হওয়া সূরাসমূহে পরকালের বাস্তবতা ও যথার্থতার পক্ষে যুক্তি পেশ করা হয়েছে। এই সূরাটিতেও বিভিন্ন ইতিহাস ও যুক্তি পেশের মাধ্যমে পরকালের বিষয়টি প্রমাণ করা হয়েছে। সূরাটির শুরুতেই কয়েকটি বিষয়ের শপথ করে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে যে, এর মধ্যে বুদ্ধিমান মানুষদের জন্য বিবেচ্য বিষয় আছে কিনা। এখানে দিন রাতের আবর্তনের শপথ করার ব্যাখ্যা এই যে, যে স্রষ্টা একটি সুনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে দিন রাতের আবর্তন ঘটাতে সক্ষম, তার জন্য পরকাল প্রতিষ্ঠা করা এবং প্রতিফল প্রদান করা মোটেই কঠিন কিছু নয়। এর পর মানবেতিহাস থেকে আদ, সামুদ ও ফিরাউনের ধ্বংস হবার উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, যারা দুনিয়াতে বিপর্যয় সৃষ্টিকারী তাদেরকে যথাসময়ে পাকড়াও করাই আল্লাহ্‌র নীতি। এই পৃথীবিতে যার যা ইচ্ছা তা করার অধিকার নেই, বরং আল্লাহ সর্বদা নজর রেখে চলেছেন যেন এখানে বিপর্যয় সৃষ্টি না হয়; তিনি পরকালে তো বটেই, প্রয়োজনে দুনিয়ার জীবনেও শাস্তি প্রদান করে থাকেন। ন্যায়পরায়ণতার দাবী এটাই যে, ভাল এবং মন্দ উভয় রকম কাজেরই যথাযোগ্য প্রতিফল থাকা উচিত। এরপর এই সূরায় অর্থলিপ্সা ও অনাথদের প্রতি নির্দয়তার সমালোচনা করা হয়েছে। সবশেষে বলা হয়েছে, ভাল এবং মন্দ উভয় কাজেরই যোগ্য প্রতিদান পরকালে প্রদান করা হবে।

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

وَالْفَجْرِ.1
১। অল্ ফাজরি

বাংলা অনুবাদ
৮৯.১ কসম ভোরবেলার।
وَلَيَالٍ عَشْرٍ.2

২। অলাইয়া-লিন্ ‘আশ্রিঁও।

কসম দশ রাতের।
وَالشَّفْعِ وَالْوَتْرِ.3

৩। অশ্শাফ্‘ইঅল্ওয়াত্রি।

কসম জোড় ও বিজোড়ের।
وَاللَّيْلِ إِذَا يَسْرِي.4

আরবি উচ্চারণ
৮৯.৪। অল্লাইলি ইযা-ইয়াস্র্।

বাংলা অনুবাদ
৮৯.৪ কসম রাতের, যখন তা বিদায় নেয়।
هَلْ فِي ذَلِكَ قَسَمٌ لِذِي حِجْرٍ.5

৫। হাল্ ফী যা-লিকা ক্বাসামুল্লিযী হির্জ্ব।

এর মধ্যে কি বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তির জন্য কসম আছে?
أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِعَادٍ.6

৬। আলাম্তার কাইফা ফা‘আলা রব্বুকা বি‘আ-দিন্

বাংলা অনুবাদ
৮৯.৬ তুমি কি দেখনি তোমার রব কিরূপ আচরণ করেছেন ‘আদ জাতির সাথে?
إِرَمَ ذَاتِ الْعِمَادِ89.7

আরবি উচ্চারণ
৮৯.৭। ইরামা যা-তিল্ ‘ইমা-দি

ইরাম গোত্রের সাথে, যারা ছিল সুউচ্চ স্তম্ভের অধিকারী?
الَّتِي لَمْ يُخْلَقْ مِثْلُهَا فِي الْبِلَادِ.8

আল্লাতী লাম্ ইয়ুখ্লাক মিছ্লুহা- ফিল্ বিলা-দি।

যার সমতুল্য কোন দেশে সৃষ্টি করা হয়নি।
وَثَمُودَ الَّذِينَ جَابُوا الصَّخْرَ بِالْوَادِي.9

৯। অছামূদা ল্লাযীনা জ্বা-বুছ্ছোয়াখ্রা বিল্ওয়া-দি।

আর সামূদ সম্প্রদায়, যারা উপত্যকায় পাথর কেটে বাড়ি ঘর নির্মাণ করেছিল?
وَفِرْعَوْنَ ذِي الْأَوْتَادِ.10

১০। অ র্ফি‘আউনা যিল্ আওতা-দি।

আর ফির‘আউন, সেনাছাউনীর অধিপতি?
الَّذِينَ طَغَوْا فِي الْبِلَادِ.11

১১। ল্লাযীনা ত্বোয়াগাও ফিল্ বিলা-দি

যারা সকল দেশে সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
فَأَكْثَرُوا فِيهَا الْفَسَادَ .12

১২। ফা আক্ছারূ ফী হাল্ ফাসা-দা।

অতঃপর তারা সেখানে বিপর্যয় বাড়িয়ে দিয়েছিল।

فَصَبَّ عَلَيْهِمْ رَبُّكَ سَوْطَ عَذَابٍ.13

১৩। ফাছোয়াব্বা ‘আলাইহিম্ রব্বুকা সাওত্বোয়া- ‘আযা-বিন্।

ফলে তোমার রব তাদের উপর আযাবের কশাঘাত মারলেন।
إِنَّ رَبَّكَ لَبِالْمِرْصَادِ.14

১৪। ইন্না রব্বাকা লাবিল্ র্মিছোয়া-দ্।

নিশ্চয় তোমার রব ঘাঁটিতেই।
فَأَمَّا الْإِنْسَانُ إِذَا مَا ابْتَلَاهُ رَبُّهُ فَأَكْرَمَهُ وَنَعَّمَهُ فَيَقُولُ رَبِّي أَكْرَمَنِي.15

১৫। ফাআম্মাল্ ইন্সা-নু ইযা-মাব্তালা-হু রব্বুহূ ফাআক্রমাহূ অনা‘আমাহূ ফাইয়াকু লু রব্বী য় আক্রমান্।

আর মানুষ তো এমন যে, যখন তার রব তাকে পরীক্ষা করেন, অতঃপর তাকে সম্মান দান করেন এবং অনুগ্রহ প্রদান করেন, তখন সে বলে, ‘আমার রব আমাকে সম্মানিত করেছেন।
وَأَمَّا إِذَا مَا ابْتَلَاهُ فَقَدَرَ عَلَيْهِ رِزْقَهُ فَيَقُولُ رَبِّي أَهَانَنِي.16

১৬। আম্মা য় ইযা-মাব্তালা-হু ফাক্বদার ‘আলাইহি রিয্ক্বহূ ফাইয়াকুলু রব্বী য় আহা-নান্।

আর যখন তিনি তাকে পরীক্ষা করেন এবং তার উপর তার রিয্ককে সঙ্কুচিত করে দেন, তখন সে বলে, ‘আমার রব আমাকে অপমানিত করেছেন’।
كَلَّا بَل لَا تُكْرِمُونَ الْيَتِيمَ.17

১৭। কাল্লা-বাল্ লা-তুক্রিমূনাল্ ইয়াতীমা।

কখনো নয়, বরং তোমরা ইয়াতীমদের দয়া- অনুগ্রহ প্রদর্শন কর না।
وَلَا تَحَاضُّونَ عَلَى طَعَامِ الْمِسْكِينِ.18

১৮। অলা-তাহা-দ্বদুনা ‘আলা-ত্বোয়া‘আ-মিল্ মিস্কীনি।

আর তোমরা মিসকীনদের খাদ্যদানে পরস্পরকে উৎসাহিত কর না।
وَتَأْكُلُونَ التُّرَاثَ أَكْلًا لَمًّا.19

অতাকুলূ নাত্ তুরা-ছা আক্লাল্লাম্মাঁও।

আর তোমরা উত্তরাধিকারের সম্পত্তি সম্পণূর্ রূপে ভক্ষণ কর।
وَتُحِبُّونَ الْمَالَ حُبًّا جَمًّا .20

২০। অতুহিব্বুনাল্ মা-লা হুব্বান্ জাম্মা-।

আর তোমরা ধন-সম্পদকে অতিশয় ভালবাস।
كَلَّا إِذَا دُكَّتِ الْأَرْضُ دَكًّا دَكًّا.21

২১। কাল্লা য় ইযা-দুক্কাতিল্ র্আদু দাক্কান্ দাক্বঁও।

কখনো নয়, যখন যমীনকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করা হবে পরিপূর্ণ ভাবে।
وَجَاءَ رَبُّكَ وَالْمَلَكُ صَفًّا صَفًّا .22

২২। অজ্বা-য়া রব্বুকা অল্ মালাকু ছোয়াফ্ফান্ ছোয়াফ্ফা-।

আর তোমার রব ও ফেরেশতাগণ উপস্থিত হবেন সারিবদ্ধভাবে।
وَجِيءَ يَوْمَئِذٍ بِجَهَنَّمَ يَوْمَئِذٍ يَتَذَكَّرُ الْإِنْسَانُ وَأَنَّى لَهُ الذِّكْرَى.23

২৩। অজ্বী-য়া ইয়াওমায়িযিম্ বিজ্বাহান্নামা ইয়াওমায়িযিঁই ইয়াতাযাক্কারুল্ ইন্সা-নু অ আন্না-লাহুয্ যিক্র-।

আর সেদিন জাহান্নামকে উপস্থিত করা হবে, সেদিন মানুষ স্মরণ করবে, কিন্তু সেই স্মরণ তার কী উপকারে আসবে?
يَقُولُ يَا لَيْتَنِي قَدَّمْتُ لِحَيَاتِي.24

২৪। ইয়াকুলু ইয়া-লাইতানী ক্বদ্দাম্তু লিহাইয়া-তী-।

সে বলবে, ‘হায়! যদি আমি কিছ ত আগে পাঠাতাম আমার এ জীবনের জন্য’!
فَيَوْمَئِذٍ لَا يُعَذِّبُ عَذَابَهُ أَحَدٌ.25

২৫। ফা ইয়াওমায়িযিল্লা-ইয়ু‘আয্যিবু ‘আযা-বাহূ য় আহাদুঁও।

অতঃপর সেদিন তাঁর আযাবের মত আযাব কেউ দিতে পারবে না।

وَلَا يُوثِقُ وَثَاقَهُ أَحَدٌ .26

২৬। অলা-ইয়ুছিকু অছা-ক্বাহূ য় আহাদ্।

আর কেউ তাঁর বাধার মত বাঁধতে পারবে না।
يَا أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ.27

২৭। ইয়া য় আইইয়াতুহান্নাফ্সুল্ মুত্ব্ মায়িন্নাতু।

হে প্রশান্ত আত্মা!
ارْجِعِي إِلَى رَبِّكِ رَاضِيَةً مَرْضِيَّةً.28

২৮। ইর্জি‘ঈ য় ইলা-রব্বিকি র-দ্বিয়াতাম্ র্মাদ্বিয়্যাহ্।

তুমি ফিরে এসো তোমার রবের প্রতি সন্তুষ্টচিত্তে, সন্তোষভাজন হয়ে।
فَادْخُلِي فِي عِبَادِي29

২৯। ফাদ্খুলী ফী ই’বা-দী।

অতঃপর আমার বান্দাদের মধ্যে শামিল হয়ে যাও।
وَادْخُلِي جَنَّتِي 30.

৩০। অদ্খুলী জ্বান্নাতী।

আর প্রবেশ কর আমার জান্নাতে।

About Abdul Latif Sheikh

Check Also

সূরার ফাতিহার নাম কি কি?

সূরার ফাতিহার নাম ও কিছু বৈশিষ্ট্যঃ সূরা আল-ফাতিহা-ই সর্বপ্রথম কুরআন মজীদের একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা হিসাবে রাসূলের …

nazmu lazam

সুরা আনকাবুত এর ১-১১ নং আয়াতের তাফসির

সুরা আনকাবুত এর ১-১১ নং আয়াতের তাফসির আনকাবুত শব্দটির অর্থ ‘মাকড়সা’। নামকরণ :সূরা আনকাবুতের চতুর্থ রুকুর …

idf image

সুরা আল ইমরান আয়াত ১০২-১০৫ এর তাফসির

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰهَ حَقَّ تُقٰتِهٖ وَ لَا تَمُوۡتُنَّ اِلَّا وَ اَنۡتُمۡ مُّسۡلِمُوۡنَ  وَ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *