Sunday , February 22 2026

ইমান ভঙ্গের কারনসমূহ

ইমান ভঙ্গের কারনসমূহঃ

ঈমান নষ্ট হওয়ার অনেক কারণ রয়েছে তার মধ্যে বিভিন্ন ইসলামিক গবেষকগণ কুরআনুল কারিমের দলিল দ্বারা ১০টি কারন উল্লেখ করেছেন 

১। আল্লাহর সাথে শিরিক করলে ঈমান নষ্ট হয়।

১। সুরা আল মায়েদা আয়াত ৭২

اِنَّهٗ مَنۡ یُّشۡرِکۡ بِاللّٰهِ فَقَدۡ حَرَّمَ اللّٰهُ عَلَیۡهِ الۡجَنَّۃَ

নিশ্চয় কেউ আল্লাহর সাথে শরীক করলে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত অবশ্যই হারাম করে দিয়েছেন

শিরিক সম্পর্কে আরো উল্লেখ আছে সুরা নেসা-৪৮, ১৭১ নং আয়াত

২। লোকমান হাকিম তার প্রিয় সন্তানের ছোট বেলায় তাকে কি সুন্দর উপদেশ দিয়েছেন। তার কথা আল্লাহ তায়ালার পছন্দ হয়েছে। তাই আল্লাহ পবিত্র কুরআনে তার কথা নোট করে দিয়েছেন। আমরা আমাদের সন্তানদেরকে দুনিয়ার বিভিন্ন কাজের উপদেশ দিয়ে থাকি, কিন্তু আল্লাহর পছন্দ করা এমন উপদেশ কয়জনে দিয়ে থাকি? লোকমান হাকিম বলেছেন-  

وَ اِذۡ قَالَ لُقۡمٰنُ لِابۡنِهٖ وَ هُوَ یَعِظُهٗ یٰبُنَیَّ لَا تُشۡرِکۡ بِاللّٰهِ ؕؔ اِنَّ الشِّرۡکَ لَظُلۡمٌ عَظِیۡمٌ

“যখন লুকমান উপদেশ দিতে গিয়ে তার পুত্ৰকে বলেছিল হে আমার প্রিয় বৎস! আল্লাহর সাথে কোন শির্ক করো না। নিশ্চয় শির্ক বড় যুলুম” (সুরা লোকমান, আয়াত- ১৩)

তাই শিরক করলে আমাদের ইমান নষ্ট হয়ে যাবে, শিরক থেকে আমাদের বাচতে হবে।

২। আল্লাহ ও বন্দার মধ্যে অন্য কাওকে মধ্যস্থতাকারি বানানো

দলিল নং- ১৮। সুরা ইউনুছ আয়াত ১৮

وَ یَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ مَا لَا یَضُرُّهُمۡ وَ لَا یَنۡفَعُهُمۡ وَ یَقُوۡلُوۡنَ هٰۤؤُلَآءِ شُفَعَآؤُنَا عِنۡدَ اللّٰهِ ؕ قُلۡ اَتُنَبِّـُٔوۡنَ اللّٰهَ بِمَا لَا یَعۡلَمُ فِی السَّمٰوٰتِ وَ لَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ سُبۡحٰنَهٗ وَ تَعٰلٰی عَمَّا یُشۡرِكُوۡنَ

আর তারা আল্লাহ ছাড়া এমন কিছুর ইবাদাত করছে যা তাদের ক্ষতিও করতে পারে না, উপকারও করতে পারে না। আর তারা বলে, এগুলো আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী। বলুন, তোমরা কি এমন কিছুর সংবাদ দেবে যা তিনি জানেন না?(১) তিনি মহান, পবিত্র এবং তারা যাকে শরীক করে তা থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে।

৩। মুশরিক-কাফিরদের কাফির মনে না করা

বর্তমান জামানায় এর প্রসার কল্পনাতীত। বর্তমান মুসলিম সমাজের আলেমদেরও এ ব্যাপারে শৈথিল্য ব্যাপক। আমরা মুসলিমরা কাফির মুশরিকদেরকে ভাই মনে করে তাদের সাথে একত্রে জীবন পরিচালনা করি। পক্ষান্তরে তারা সুযোগ পেলে আমাদের ক্ষতি সাধনে ব্যস্থ থাকে। এটা আমাদের বুঝা উচিত। আল্লাহ কুরআনুল কারীমে বলেন-

لَا یَتَّخِذِ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ الۡكٰفِرِیۡنَ اَوۡلِیَآءَ مِنۡ دُوۡنِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ۚ وَ مَنۡ یَّفۡعَلۡ ذٰلِكَ فَلَیۡسَ مِنَ اللّٰهِ فِیۡ شَیۡءٍ اِلَّاۤ اَنۡ تَتَّقُوۡا مِنۡهُمۡ تُقٰىۃً ؕ وَ یُحَذِّرُكُمُ اللّٰهُ نَفۡسَهٗ ؕ وَ اِلَی اللّٰهِ الۡمَصِیۡرُ

মুমিনগণ যেন মুমিনগণ ছাড়া কাফেরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। আর যে কেউ এরূপ করবে তার সাথে আল্লাহ্‌র কোন সম্পর্কে থাকবে না; তবে ব্যতিক্রম, যদি তোমরা তাদের নিকট থেকে আত্মরক্ষার জন্য সতর্কতা অবলম্বন কর। আর আল্লাহ তাঁর নিজের সম্বন্ধে তোমাদেরকে সাবধান করছেন এবং আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তন। (সুরা আল ইমরান, আয়াত-২৮)

৪। নবি (সা.)র ফয়সালার তুলনায় অন্য কারো ফয়সালাকে উত্তম মনে করা

দলিল নং- ১৯। সূরা আন নিসা আয়াত ৬০

یُرِیۡدُوۡنَ اَنۡ یَّتَحَاکَمُوۡۤا اِلَی الطَّاغُوۡتِ وَ قَدۡ اُمِرُوۡۤا اَنۡ یَّکۡفُرُوۡا بِهٖ

 তারা তাগূতের কাছে বিচার নিয়ে যেতে চায় অথচ তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাকে অস্বীকার করতে।

৫। মুহাম্মাদ (সা.) আনীত বিধানকে অপছন্দ করা

ইসলামের কোনো বিধানকে আন্তরিকভাবে অপছন্দ করা যদিও বাহ্যিকভাবে ইসলামের ওপর আমল করা হোক না কেন। যেমন- পর্দার হুকুমকে অপছন্দ করা কিংবা উপযুক্ত ব্যক্তির একাধিক বিয়েকে অপছন্দ করা। এমনিভাবে জিহাদ বা আল্লাহর পথে সংগ্রামকে অপছন্দ করা। মুহাম্মাদ (সা.) আনীত কোনো বিধানকে অপছন্দ করলে তার ইমান নষ্ট হয়ে যাবে। আল্লাহ বলেন-

فَلَا وَ رَبِّكَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ حَتّٰی یُحَكِّمُوۡكَ فِیۡمَا شَجَرَ بَیۡنَهُمۡ ثُمَّ لَا یَجِدُوۡا فِیۡۤ اَنۡفُسِهِمۡ حَرَجًا مِّمَّا قَضَیۡتَ وَ یُسَلِّمُوۡا تَسۡلِیۡمًا 

কিন্তু না, আপনার রবের শপথ তারা মুমিন হবে না যতক্ষন পর্যন্ত তারা নিজেদের বিবাদ-বিসম্বাদের বিচার ভার আপনার উপর অর্পণ না করে; অতঃপর আপনার মীমাংসা সম্পর্কে তাদের মনে কোন দ্বিধা না থাকে এবং সর্বান্তকরণে তা মেনে নেয়। (সুরা নিসা, আয়াত-৬৫)

৬। দীনের কোনো বিধান নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা

দলিল নং- ২০। সূরা আত তাওবা আয়াত ৬৫-৬৬

وَ لَئِنۡ سَاَلۡتَهُمۡ لَیَقُوۡلُنَّ اِنَّمَا كُنَّا نَخُوۡضُ وَ نَلۡعَبُ ؕ قُلۡ اَ بِاللّٰهِ وَ اٰیٰتِهٖ وَ رَسُوۡلِهٖ كُنۡتُمۡ تَسۡتَهۡزِءُوۡنَ

لَا تَعۡتَذِرُوۡا قَدۡ كَفَرۡتُمۡ بَعۡدَ اِیۡمَانِكُمۡ                                                                  

 ‘তুমি তাদের প্রশ্ন করলে তারা নিশ্চয়ই বলবে- আমরা তো আলাপ-আলোচনা ও ক্রীড়া-কৌতুক করছিলাম। বলো, তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াত ও তাঁর রাসূলকে বিদ্রূপ করছিলে?’ তোমরা অজুহাত দেয়ার চেষ্টা করো না। তোমরা তো ঈমান আনার পর কুফরি করেছ’

দীনের কোনো বিধান নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করলে ইমান নষ্ট হয়ে যাবে।

৭। জাদু করা

দলিল নং- ২১। সুরা আয যারিয়াতআয়াত-৫২

کَذٰلِکَ مَاۤ اَتَی الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِهِمۡ مِّنۡ رَّسُوۡلٍ اِلَّا قَالُوۡا سَاحِرٌ اَوۡ مَجۡنُوۡنٌ

এভাবে তাদের পূর্ববর্তীদের কাছে যখনই কোন রাসূল এসেছেন তারাই তাকে বলেছে, এ তো এক জাদুকর, না হয় এক উন্মাদ!

এছাড়া আল্লাহ আরো বলেন-

وَ اتَّبَعُوۡا مَا تَتۡلُوا الشَّیٰطِیۡنُ عَلٰی مُلۡكِ سُلَیۡمٰنَ ۚ وَ مَا كَفَرَ سُلَیۡمٰنُ وَ لٰكِنَّ الشَّیٰطِیۡنَ كَفَرُوۡا یُعَلِّمُوۡنَ النَّاسَ السِّحۡرَ ٭ وَ مَاۤ اُنۡزِلَ عَلَی الۡمَلَكَیۡنِ بِبَابِلَ هَارُوۡتَ وَ مَارُوۡتَ ؕ وَ مَا یُعَلِّمٰنِ مِنۡ اَحَدٍ حَتّٰی یَقُوۡلَاۤ اِنَّمَا نَحۡنُ فِتۡنَۃٌ فَلَا تَكۡفُرۡ ؕ فَیَتَعَلَّمُوۡنَ مِنۡهُمَا مَا یُفَرِّقُوۡنَ بِهٖ بَیۡنَ الۡمَرۡءِ وَ زَوۡجِهٖ ؕ وَ مَا هُمۡ بِضَآرِّیۡنَ بِهٖ مِنۡ اَحَدٍ اِلَّا بِاِذۡنِ اللّٰهِ ؕ وَ یَتَعَلَّمُوۡنَ مَا یَضُرُّهُمۡ وَ لَا یَنۡفَعُهُمۡ ؕ وَ لَقَدۡ عَلِمُوۡا لَمَنِ اشۡتَرٰىهُ مَا لَهٗ فِی الۡاٰخِرَۃِ مِنۡ خَلَاقٍ ۟ؕ وَ لَبِئۡسَ مَا شَرَوۡا بِهٖۤ اَنۡفُسَهُمۡ ؕ لَوۡ كَانُوۡا یَعۡلَمُوۡنَ

আর সুলাইমানের রাজত্বে শয়তানরা যা আবৃত্তি করত তারা তা অনুসরণ করেছে। আর সুলাইমান কুফরী করেননি, বরং শয়তানরাই কুফরী করেছিল। তারা মানুষকে শিক্ষা দিত জাদু ও (সে বিষয় শিক্ষা দিত) যা বাবিল শহরে হারূত ও মারূত ফিরিশতাদ্বয়ের উপর নাযিল হয়েছিল। তারা উভয়েই এই কথা না বলে কাউকে শিক্ষা দিত না যে, ‘আমরা নিছক একটি পরীক্ষা; কাজেই তুমি কুফরী করো না’।(১)। তা সত্বেও তারা ফিরিশতাদ্বয়ের কাছ থেকে এমন জাদু শিখত যা দ্বারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতো(২)। অথচ তারা আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত তা দ্বারা কারো ক্ষতি করতে পারত না। আর তারা তা-ই শিখত যা তাদের ক্ষতি করত এবং কোন উপকারে আসত না। আর তারা নিশ্চিত জানে যে, যে কেউ তা খরিদ করে, (অর্থাৎ জাদুর আশ্রয় নেয়) তার জন্য আখেরাতে কোন অংশ নেই। যার বিনিময়ে তারা নিজেদের বিকিয়ে দিচ্ছে, তা খুবই মন্দ, যদি তারা জানত! (সুরা বাকারা, আয়াত ১০২)

৮। মুসলিমদের বিরুদ্ধে মুশরিকদের সমর্থন ও সহযোগিতা করা

দলিল নং- ২২। সুরা আত তাওবাআয়াত ২৩

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَتَّخِذُوۡۤا اٰبَآءَكُمۡ وَ اِخۡوَانَكُمۡ اَوۡلِیَآءَ اِنِ اسۡتَحَبُّوا الۡكُفۡرَ عَلَی الۡاِیۡمَانِ ؕ وَ مَنۡ یَّتَوَلَّهُمۡ مِّنۡكُمۡ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الظّٰلِمُوۡنَ

‘হে মুমিনগণ! তোমাদের পিতা ও ভাইও যদি ঈমানের বিপরীতে কুফরিকে বেছে নেয়, তবে তাদের অন্তরঙ্গরূপে গ্রহণ করো না। তোমাদের মধ্যে যারা তাদের অন্তরঙ্গরূপে গ্রহণ করে, তারাই সীমালঙ্ঘনকারী।’ 

৯। কাউকে দীন-শরিয়তের ঊর্ধ্বে মনে করা

যেমন- মারেফতের ধোঁয়া তুলে নিজেকে ইসলামের হুকুম আহকামের ঊর্ধ্বে মনে করা। বাতেনিভাবে নামাজ-রোজা আদায়ের কথা বলা।
আল্লাহ বলেন,

দলিল নং- ২৩ সূরা আল মায়িদা আয়াত ৩

اَکۡمَلۡتُ لَکُمۡ دِیۡنَکُمۡ وَ اَتۡمَمۡتُ عَلَیۡکُمۡ نِعۡمَتِیۡ وَ رَضِیۡتُ لَکُمُ الۡاِسۡلَامَ دِیۡنًا

আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম’ ।

১০। দীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া

দলিল নং- ২৪। সুরা আস সাজদাহ আয়াত ২২

وَ مَنۡ اَظۡلَمُ مِمَّنۡ ذُكِّرَ بِاٰیٰتِ رَبِّهٖ ثُمَّ اَعۡرَضَ عَنۡهَا ؕ اِنَّا مِنَ الۡمُجۡرِمِیۡنَ مُنۡتَقِمُوۡنَ

 ‘যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের নিদর্শনাবলি দ্বারা উপদিষ্ট হয়েও তা হতে মুখ ফিরিয়ে নেয় তার অপেক্ষা অধিক অপরাধী আর কে? আমি অবশ্যই অপরাধীদের শাস্তি দিয়ে থাকি।’ 

দলিল ভিত্তিক ইবাদাত ও জীবনপথ বইয়ের পূর্বের পাঠ পেতে ক্লিক করুন

About Md Nazmul Azam

I am website developer.

Check Also

সুরা বাকারা এর ১৭৭ নং আয়াতের দারস (তাফসির)

সুরা বাকারা এর ১৭৭ নং আয়াতের দারস (তাফসির)  لَیۡسَ الۡبِرَّ اَنۡ تُوَلُّوۡا وُجُوۡهَكُمۡ قِبَلَ الۡمَشۡرِقِ …

সুরা বাকারা ২৫৬-২৫৭ আয়াতের দারস (তাফসীর)

لَاۤ اِكۡرَاهَ فِی الدِّیۡنِ ۟ۙ قَدۡ تَّبَیَّنَ الرُّشۡدُ مِنَ الۡغَیِّ ۚ فَمَنۡ یَّكۡفُرۡ بِالطَّاغُوۡتِ وَ …

সূরা তাওবা আয়াত ৩৮-৪২ এর দারস (তাফসীর)

সূরা আত তাওবা আয়াত- ৩৮-৪২ یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مَا لَكُمۡ اِذَا قِیۡلَ لَكُمُ انۡفِرُوۡا فِیۡ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *